
যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি কিনতে চুক্তি স্বাক্ষর কাতারের
জ্যারেড কুশনার
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৩১

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও সাবেক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও সাবেক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারের বিরুদ্ধে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও ইসরাইলের নেতাদের সঙ্গে গোপন আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। ডাচ গোয়েন্দারা কুশনারের ফোনে নজরদারি চালিয়ে এসব লেনদেনের তথ্য পেয়েছেন বলে জানিয়েছে খ্যাতনামা মার্কিন সাময়িকী ভ্যানিটি ফেয়ার।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর কুশনারের কথিত আর্থিক সম্পর্ক এবং ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতিতে তার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে কুশনার ও তার আইনজীবী অভিযোগগুলো জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন।
সাংবাদিক ম্যাথিউ কোলের আসন্ন বই ‘প্রিন্সেস অ্যান্ড থিভস: জ্যারেড কুশনার অ্যান্ড মোহাম্মদ বিন জায়েদের সিক্রেট প্লট টু রিমেক দ্য মিডল ইস্ট’র একটি অংশের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে যাতে এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে এসেছে।
নেদারল্যান্ডসের গোয়েন্দা সংস্থা কোনো এক উপায়ে জ্যারেড কুশনারের আইফোন হ্যাক করতে সক্ষম হয়। তারা সরাসরি ফোন থেকে তার গোপন কথাবার্তা, চ্যাট ও ব্যাংকের লেনদেনের তথ্য হাতিয়ে নেয়।
ওই হ্যাক হওয়া তথ্যে দেখা যায়, কুশনার ট্রাম্প প্রশাসনের মাধ্যমে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মোহাম্মদ বিন জায়েদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেন। বিনিময়ে এই দুই আরব দেশ থেকে একটি গোপন ফান্ডে বিশাল অঙ্কের তহবিল আসার পথ তৈরি হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমিরাত ও সৌদি আরবের সাথে যুক্ত গোপন ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোতে মোট প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত জমা হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে শুধু সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত ওয়াতানি আল এমারাত ফাউন্ডেশনের নামে আবুধাবির ফার্স্ট আবুধাবি ব্যাংকে থাকা একটি হিসাবে প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ডলার জমা পড়েছিল। অর্থের একটি বড় অংশ আজারবাইজানের একটি ব্যাংক থেকে স্থানান্তর করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই হিসাবের স্বাক্ষরকারী হিসেবে কুশনারের নাম ছিল। ফলে তিনি হিসাবটি ব্যবহারের সুযোগ পেতেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে হিসাবটির মালিক তিনি ছিলেন না। হিসাবটি তদারকির দায়িত্বে ছিলেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদের ভাই তাহনুন বিন জায়েদ।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, তাহনুন বিন জায়েদ ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য একটি গোপন তহবিল গঠনের ধারণা দিয়েছিলেন। পরিকল্পনাটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত না হলেও দুই উপসাগরীয় দেশের শাসকগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে কুশনারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি হিসাবে অন্তত ২ বিলিয়ন ডলার রাখা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
এমনকি এসব অর্থের একটা অংশ কুশনারের ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য এবং আরেকটি অংশ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি, মার্সেনারি বা চুক্তিবদ্ধ লোকজনদের পেছনে খরচ করা হয়েছিল।
এই পুরো টাকা পয়সার লেনদেন এবং কূটনীতির মূল লক্ষ্য ছিল মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দেওয়া-যার মধ্যে ইসরাইল এবং আরব দেশগুলোর মধ্যকার তথাকথিত আব্রাহাম অ্যাকর্ডস অর্থাৎ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তিগুলোও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আরেকটি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে কুশনারের ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য ১ বিলিয়ন ডলার স্থানান্তর বা লেনদেন হয়েছিল বলে অভিযোগ। আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ এই অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থা করেছিলেন এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অর্থটি ইসরাইলে জমা রাখার জন্য কুশনারকে উৎসাহিত করেছিলেন।
এ বিষয়ে কুশনার তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড ফ্রিডম্যানের মাধ্যমে নেতানিয়াহুর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্পের স্বামী কুশনার বর্তমানে বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগে যুক্ত রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা ও সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কুশনার অভিযোগগুলোকে ‘সম্পূর্ণ উন্মাদনাপূর্ণ ও কখনো ঘটেনি’ বলে দাবি করেন।
তিনি লেখেন, ‘এগুলো অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার নামে উপস্থাপিত ভয়াবহ বানোয়াট কাহিনি। এটি সাংবাদিকতা নয়। বরং কল্পনা, মিথ্যা ও পক্ষপাতের মিশ্রণ।’
কুশনারের দাবি, তার পক্ষ থেকে প্রতিটি অভিযোগের জবাব দেওয়া হলেও লেখক কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেননি। ব্যাংক বিবরণী, অর্থ স্থানান্তরের নথি, হিসাব নম্বর কিংবা লেনদেনের তারিখের মতো যাচাইযোগ্য তথ্যও দেওয়া হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
কুশনার আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট সময়ে তিনি সংবাদমাধ্যমের নিবিড় নজরদারি, একাধিক কংগ্রেসীয় তদন্ত এবং বিশেষ কৌঁসুলির তদন্তের মুখোমুখি হয়েছিলেন। এসব তদন্তে তিনি স্বেচ্ছায় ৩০ ঘণ্টার বেশি সাক্ষ্য দিয়েছেন বলেও দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘এসব অভিযোগের কোনোটি তখন সামনে আসেনি, কারণ এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি।’
কুশনারের আইনজীবী চ্যাড মিজেলও অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মানহানিকর বলে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘এগুলো ব্যাখ্যার পার্থক্য বা পরস্পরবিরোধী স্মৃতির বিষয় নয়। এমন কোনো ব্যাংক হিসাব নেই। এগুলোর অস্তিত্বই নেই।’ মামলা করা হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মিজেল বলেন, ‘সব ধরনের পদক্ষেপের সুযোগ খোলা রয়েছে।’