
ট্রাম্প জামাতার হ্যাক হওয়া ফোনে সৌদি-আমিরাতের সঙ্গে গোপন লেনদেনের চাঞ্চল্যকর তথ্য
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ২২:১

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের প্রভাবে নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন ও রফতানি ব্যাহত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার চুক্তি করেছে কাতার। মার্কিন জ্বালানি কোম্পানি চেনিয়ের এনার্জির সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী, ২০৫৪ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ৪০ লাখ টন এলএনজি কিনবে কাতারএনার্জি। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, মার্কিন কোম্পানি চেনিয়ের এনার্জির দুটি উৎপাদনকেন্দ্র থেকে বছরে ২০ লাখ টন করে এলএনজি কিনবে কাতারএনার্জি। যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানায় অবস্থিত সাবিন পাস এবং টেক্সাসের করপাস ক্রিস্টি কেন্দ্র থেকে এই গ্যাস সরবরাহ করা হবে। ২০৩০-এর দশকের শুরুর দিকে সরবরাহ শুরু হয়ে ২০৫৪ সাল পর্যন্ত চলবে।
যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলএনজি রফতানিকারক দেশ ছিল কাতার। কিন্তু মার্চে যুদ্ধের প্রথম মাসে ইরানের হামলায় দেশটির রাস লাফান গ্যাস স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হয়। এ কারণে এশিয়ার ক্রেতাদের সঙ্গে সরবরাহ চুক্তি পূরণ করতে বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস সংগ্রহের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
এছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন এবং বিভিন্ন জাহাজে ইরানের হামলার কারণে কাতারের এলএনজি রপ্তানিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
কাতারএনার্জি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অবস্থিত গোল্ডেন পাস এলএনজি রফতানি প্রকল্পেরও সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিক। চলতি বছরের ৩০ মার্চ কেন্দ্রটিতে উৎপাদন শুরু হয় এবং পর্যায়ক্রমে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
কাতারে নিজস্ব উৎপাদনকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক এলএনজি বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার সুযোগ পাবে কাতারএনার্জি।
বিশ্ব জ্বালানি বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়ছে
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি রফতানি ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির গবেষক ইরা জোসেফ মে মাসে মন্তব্য করেছিলেন, সরবরাহে বিঘ্নের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রতিযোগীরা চাপে পড়েছে এবং এর ফলে জ্বালানির দাম বাড়ছে। এতে মার্কিন তেল ও গ্যাস উৎপাদকরা বড় ধরনের আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে এশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক এলএনজি আমদানিকারক হয়ে ওঠে। ওই মাসে এশিয়ায় ২০২ বিলিয়ন ঘনফুট মার্কিন এলএনজি সরবরাহ করা হয়। ২০২৪ সালের আগস্টের পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি আমদানিতে ইউরোপকে ছাড়িয়ে যায় এশিয়া।
কাতারের নতুন চুক্তি একদিকে দেশটির দীর্ঘমেয়াদি গ্যাস সরবরাহের বাধ্যবাধকতা পূরণে সহায়তা করবে, অন্যদিকে যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় তৈরি হওয়া পরিবর্তনের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ বাড়াবে।
তথ্যসূত্র: দ্য ক্র্যাডল