
২১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদের সব ফ্লাইট স্থগিত করলো ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স
সাইফুল ইসলাম
প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৬

বারবার ঘোষণা ও একাধিক আশ্বাসের পরও পুরোপুরি চালু হয়নি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। আগস্ট-সেপ্টেম্বরের পর এবার বাজার চালুর সিদ্ধান্ত গড়িয়েছে অক্টোবরে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে ২৮ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্র সত্যায়নের খবর এলেও সরকারের পক্ষ থেকে আসেনি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। এতে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে জনশক্তি রফতানিকারক এজেন্সিগুলোর। এমন পরিস্থিতিতে দুই দেশের নীতিনির্ধারকদের কূটনৈতিক সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে দ্রুত শ্রমবাজার চালুর তাগিদ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বাংলাদেশের জনশক্তি রফতানির অন্যতম বড় গন্তব্য মালয়েশিয়া। তবে বারবার উদ্যোগ নেয়ার পরও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই শ্রমবাজার চালু নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। গত জুনে প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর বন্ধ শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে নতুন করে আশার আলো দেখা যায়। এরপর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও আসে চূড়ান্ত আশ্বাস। কিন্তু দুই মাস পেরিয়ে অক্টোবরে এসেও মেলেনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্র সত্যায়নসহ বিভিন্ন অগ্রগতির খবর গণমাধ্যমে এলেও সরকারিভাবে কোনো ঘোষণা না আসায় অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। নেইবার অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘মানুষ এখন বিভ্রান্তির মধ্যে আছে। আমরাও কিছু বলতে পারছি না। কেউ মেডিকেল করাতে চাচ্ছেন, কেউ অন্য প্রস্তুতি নিতে চাচ্ছেন, আবার কেউ পাসপোর্ট জমা দেবেন কি না, তা জানতে চাইছেন। আমরাও এখন পর্যন্ত মানুষকে পাসপোর্ট জমা দেয়ার কোনো সংকেত দিচ্ছি না। কারণ, অযথা হয়রানি করে তো লাভ নেই।’
মালয়েশিয়া সরকারের বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্ল্যাটফর্ম এফডব্লিউসিএমএসে এরই মধ্যে বাংলাদেশ থেকে কোন কোন এজেন্সি কর্মী পাঠাবে এবং কোন কোন প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবে, তা জানানো হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত শ্রমবাজার উন্মুক্ত না হলে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুযোগ অন্য দেশগুলোর দখলে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন এজেন্সি মালিকরা।
শ্রমবাজার রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মনে করি না, এখন আর কোনো সমস্যা আছে। আশা করছি, এ সপ্তাহে না হলে আগামী সপ্তাহের মধ্যে শ্রমবাজার চালু হবে। কারণ, যত দেরি হবে, ততই আমরা বাজার হারানোর ঝুঁকিতে পড়ব। একই সঙ্গে আমাদের কর্মীদের মালয়েশিয়া যাওয়ার পথও সংকীর্ণ হয়ে আসবে।’
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বারবার আশ্বাস না দিয়ে দ্রুত ও স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেয়া জরুরি। সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হলে দুই দেশের অর্থনৈতিক কূটনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পলিসি থিঙ্ক অ্যান্ড রিসার্চের চেয়ারম্যান মো. মাজেদুল হক বলেন, ‘আমরা রফতানি আয় বাড়াতে পারছি না। আমাদের রিজার্ভ বাড়ানো প্রয়োজন, পাশাপাশি ঋণ পরিশোধের চাপও রয়েছে। এ অবস্থায় বৈদেশিক শ্রমবাজার টেকসই রাখতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক দক্ষতা কাজে লাগিয়ে দ্রুত শ্রমবাজার খুলে দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। বৈদেশিক শ্রমবাজার চালু করতে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠবে। ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দেউলিয়াত্বের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।’
তবে দ্রুত বেশি সংখ্যক কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নিতে গিয়ে যেন অভিবাসন ব্যয় বেড়ে না যায়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।