
আবারও বাড়ল জেট ফুয়েলের দাম
মাহমুদ শামসুল আরেফিন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৫২

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। ফাইল ছবি
মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনে অর্থায়ন ও জনবল দিয়ে সহায়তার অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, শিল্পপতি ও রাজনৈতিক কর্মীসহ অন্তত ২০৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ জন্য দেশের সব ব্যাংকে নির্দেশনা পাঠিয়েছে সংস্থাটি।
এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের কার্যক্রম চলছে। তালিকায় দেশের কয়েকটি শীর্ষ শিল্পগ্রুপের মালিক, সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং রাজনৈতিক কর্মীরা রয়েছেন।
তালিকায় রয়েছেন সিপাল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, বেক্সিমকো গ্রুপের মালিক সালমান এফ রহমান, এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক সংসদ সদস্য সালাম মুর্শেদী, রেনেসাঁ গ্রুপের মালিক ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এবং হামিদ গ্রুপের মালিক ও সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু।
এনবিআরের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এরইমধ্যে ইমেইলের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হিসাব জব্দের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এ তালিকায় আরও রয়েছেন ফেবিয়ান গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, তুসুকা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়জুর রহমান বাদল, ওয়েল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আবদুস ছালাম, নিপা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খসরু চৌধুরী, অ্যাক্সিস নিটওয়্যারস লিমিটেডের পরিচালক জাহিদ আহমেদ টুলু, স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম মোশাররফ হোসেন এবং গিভেন্সি গ্রুপের চেয়ারম্যান মাসুমা খাতুন লিপা।
মূলত পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও এর সহযোগী সংগঠনের কিছু নেতাকর্মীর অনুপ্রবেশ ও নাশকতায় জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছেন গোয়েন্দারা। প্রতিবেদনে আওয়ামীপন্থি ব্যবসায়ী মালিকানাধীন গাজীপুরের অন্তত ১০টি পোশাক কারখানার নাম এসেছে, যারা এই আন্দোলনে ইন্ধন দিচ্ছে। সত্যতা মিলেছে শ্রমিকদের বক্তব্যেরও।
নূন্যতম ৩০ হাজার টাকা মজুরিসহ আরও কয়েকটি দাবিতে আন্দোলনে নামেন পোশাক শ্রমিকরা। এরই মধ্যে পার হয়েছে এক সপ্তাহ। ধীরে ধীরে আন্দোলন সহিংস আকার ধারণ করছে।
পোশাক শ্রমিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তাদের বেতন নির্ধারণে রোববার মজুরি বোর্ডও গঠন করে সরকার। ফলে এখন আর শ্রমিকদের মূল আন্দোলন বা দাবির যৌক্তিকতা থাকার কথা নয়। কিন্তু এর মধ্যেও যারা সহিংস আচরণ করছে, তাদের সঙ্গে সাধারণ শ্রমিকদের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গোয়েন্দা তথ্য বলছে, ঢাকার মিরপুর, গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জে পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও অন্যান্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের কিছু নেতাকর্মীর অনুপ্রবেশ ও নাশকতায় জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আওয়ামীপন্থি ব্যবসায়ীদের মালিকানাধীন গাজীপুরেই অন্তত ১০টি পোশাক কারখানার নাম এসেছে, যারা এই আন্দোলনে ইন্ধন দিচ্ছে।
শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা কারখানায় কাজ করতে চাইলেও, তাদেরকে আন্দোলনে যোগ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে।
আন্দোলনে যোগ দেয়া শ্রমিকদের অনেকেই জানেন না তাদের অংশগ্রহণের কারণ, এমন দাবি গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া।
এদিকে পোশাক শ্রমিকের ছদ্মবেশে নাশকতার অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অন্তত ৪০ জনকে গ্রেফতারের তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।