
গ্রিন কার্ড পেলেন মৌসুমী, দেশে ফিরবেন নাকি যুক্তরাষ্ট্রেই থাকবেন?
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৪০

কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় লালন আখড়াবাড়িতে বাউল সাধক ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসবের উদ্বোধন হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় লালন আখড়াবাড়িতে বাউল সাধক ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসবের উদ্বোধন হয়েছে। ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ লালনের এই বাণী ধারণ করে মানবতার শিক্ষা ও সত্যের সন্ধানে ভক্তরা আখড়াবাড়িতে আসছেন। প্রচলিত প্রথা ও সাধু রীতি অনুসারে তিন দিনব্যাপী এ স্মরণোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
সাধুসঙ্গ, মানবপ্রেম আর আত্মিক মিলনের আবহে মুখরিত আখড়াবাড়ি। সামনে সাজানো খাবারের থালা। সারিবদ্ধভাবে বসে আছেন সাধু-আশেকানরা। অপেক্ষা কেবল আদেশের। নির্দেশনা মিলতেই একসঙ্গে শুরু হয় খাবার গ্রহণ।
এ যেন কেবল আহার নয়, বরং জাত-পাত, ধর্ম-বর্ণ আর শ্রেণিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে মানবতার বন্ধনে একাকার হওয়ার আয়োজন। সাধুসঙ্গে আসা হাজারো বাউল, সাধু ও ভক্তের পুণ্যসেবার মধ্য দিয়েই সম্পন্ন হয় লালন স্মরণোৎসবের অন্যতম প্রধান আনুষ্ঠানিকতা।
শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, লালনের অজানা দর্শনকে জানা, আত্মার মুক্তির সন্ধান আর মনের মানুষের খোঁজে প্রতিবছরই ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে সমবেত হন দেশ-বিদেশের হাজারো অনুসারী, সাধু-বাউল ও দর্শনার্থী। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দেন মানবপ্রেমের সেই শাশ্বত বাণী।
একদিকে ছোট ছোট খণ্ড আস্তানায় চলছে ভাববিনিময়, সাধুসঙ্গ আর আত্মিক মিলনমেলা। অন্যদিকে, আখড়াবাড়ি-সংলগ্ন কালী নদীর তীরে বসেছে ঐতিহ্যবাহী লালন মেলা। দেশজ সংস্কৃতি, লোকজ পণ্য আর মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে জমে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গণ।
উৎসবকে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন রাখতে সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়াচ টাওয়ারসহ কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সাধুসঙ্গ, বাউলগান আর মানবতার মহিমায় উদ্ভাসিত এই আয়োজনের পর্দা নামবে সোমবার রাতে। তবে লালনের দর্শন, তার গানের আবেদন আর মানুষকে ভালোবাসার শিক্ষা- তা যেন থেকে যাবে উৎসবের বাইরেও, মানুষের হৃদয়ে।