
ষাটের দশকের অভিনেত্রী নাসিমা খান আর নেই
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:২৯

রোববার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘কাজী নজরুল ইসলাম: মানবতার সার্বজনীন কণ্ঠস্বর’ শিরোনামে আয়োজিত সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায়।
বাংলা সংস্কৃতিতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অবদান অনস্বীকার্য-এ কথা জানিয়ে তার সাহিত্য চেতনা বিশ্বদরবারে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। এদিকে সাংস্কৃতিক কূটনীতিতে জাতীয় কবিকে গুরুত্বের সঙ্গে ধারণের কথা বলছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
রোববার (১১ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘কাজী নজরুল ইসলাম: মানবতার সার্বজনীন কণ্ঠস্বর’ শিরোনামে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন তারা।
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, নজরুল বাংলায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু তার বার্তা সমগ্র মানবজাতির জন্য। তিনি শোষিত ও নিপীড়িতের পক্ষে কথা বলেছেন, প্রতিটি মানুষের মর্যাদাকে উদ্ভাসিত করেছেন এবং শোষণ ও বৈষম্যহীন এক পৃথিবীর স্বপ্ন দেখেছেন। আজ আমাদের দায়িত্ব কেবল নজরুলকে স্মরণ করা নয়, বরং তার আদর্শকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
তিনি আরও বলেন, যদি নতুন প্রজন্মকে কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য পড়তে, গান গাইতে, তার মানবতাবোধ এবং বিশেষ করে সাম্য ও সহনশীলতার আদর্শকে উপলব্ধি করতে অনুপ্রাণিত করতে পারে তবেই এর আসল উদ্দেশ্য সফল হবে। ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬’ হয়ে উঠুক বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী মাইলফলক এবং কবি, মানবতাবাদী ও সার্বজনীন কণ্ঠস্বরকে নতুন করে আবিষ্কারের এক অনন্য সুযোগ। নজরুল বাংলাদেশের, কিন্তু নজরুলের বার্তা সমগ্র মানবজাতির।
শামা ওবায়েদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরুল বর্ষ ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে জাতীয় কবির মর্যাদাকে আরও গুরুত্ববহ করে তুলেছে।
এ সময় বক্তারা বলেন, নজরুল সাহিত্যে বার বার উঠে এসেছে বৈশ্বিক শান্তি এবং মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম। সাংস্কৃতিক এ আয়োজনে উপভোগ করেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত এবং সংস্কৃতি অঙ্গনের সদস্যরা।
এই সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।
সেমিনারের শুরুতেই শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর নাহিদা সোবহান। এরপর নজরুলের কাজকর্ম, জীবন দর্শনসহ তার সবকিছু নিয়ে নির্মিত একটা ডকুমেন্টারি দেখানো হয়।
পরে কি নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য রাখেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোশারফ হোসেন। এরপর বক্তব্য রাখেন নজরুল ইনস্টিটিউটের সাবেক ডিরেক্টর কবি আব্দুল হাই শিকদার।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, ফরেন সার্ভিস একাডেমির পরিচালক, রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক কোরের সদস্যরা, জাতিসংঘ সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। সেমিনারের শেষে দ্বিতীয় পর্বে নজরুলকে নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়।