
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হলেন গিয়াস উদ্দিন
মহানগর ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২:৩৯

বরখাস্তকৃত অতিরিক্ত ডিআইজি টুটুল। ছবি: সংগৃহীত
নিজেকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি পরিচয় দিয়ে বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার এবং অনুমোদিত ছুটি শুরুর আগেই বিধিবহির্ভূতভাবে কর্মস্থল ত্যাগের অভিযোগে অতিরিক্ত ডিআইজি টুটুল চক্রবর্তীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সই করা প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেয়া হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাজশাহীতে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় টুটুল চক্রবর্তীর ২০২৫ সালের ১৪ ও ১৫ নভেম্বর দুদিনের কর্মস্থল ত্যাগের অনুমতি এবং ১৬ থেকে ১৮ নভেম্বর তিন দিনের নৈমিত্তিক ছুটি মঞ্জুর ছিল। কিন্তু তিনি ১৩ নভেম্বর পূর্বাহ্নে কোনো প্রস্থান প্রতিবেদন দাখিল না করে বিধিবহির্ভূতভাবে কর্মস্থল ত্যাগ করেন।
ওই দিন তিনি নিজেকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি পরিচয় দিয়ে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করেন। পরে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রাজশাহী ছাড়েন।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, এর আগেও কয়েকবার রাজশাহী বিমানবন্দরে নিজেকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি পরিচয় দিয়ে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করায় টুটুল চক্রবর্তী বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসেন। তার এ কর্মকাণ্ডে জনসম্মুখে পুলিশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পুলিশ সদর দফতর থেকে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। পরে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। একই সঙ্গে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টুটুল চক্রবর্তী ওই নোটিশের কোনো লিখিত জবাব দেননি। সময় বাড়ানোর জন্যও আবেদন করেননি তিনি। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় গত ২ এপ্রিল তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা ৭ মে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে টুটুল চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেয়া হয়। একই সঙ্গে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তিনি গত ২৩ জানুয়ারি থেকে পলাতক রয়েছেন।
এরপর গত ১৬ জুন তাকে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। কেন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অন্য কোনো গুরুদণ্ড দেয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় ওই নোটিশে। তবে সেই নোটিশেরও কোনো জবাব দেননি তিনি।
পরে টুটুল চক্রবর্তীকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ বিষয়ে গত ২৩ জুলাই বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ চাওয়া হয়। কমিশন ১৪ সেপ্টেম্বর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেয়া যেতে পারে বলে পরামর্শ দেয়।
সবশেষে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর গত ৫ অক্টোবর টুটুল চক্রবর্তীকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, টুটুল চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এবং গত ২৩ জানুয়ারি থেকে কর্মস্থল থেকে পলাতক থাকায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেয়া হলো। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।