
কুষ্টিয়ায় পাগলা কুকুরের কামড়ে হাসপাতালে ৩৩ জন
শাহ্ অলিদুর রহমান
প্রকাশ: ৩ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৩১

শুষ্ক মৌসুমে পানি শুকিয়ে যাওয়া এবং বর্ষাকালে অতিরিক্ত কচুরিপানা ও অনাকাঙ্ক্ষিত আগাছার কারণে অভয়াশ্রমগুলো এখন অরক্ষিত। ছবি: সময় সংবাদ
প্রয়োজনীয় সংস্কার, খনন ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মৌলভীবাজারের হাকালুকি এবং হাইল হাওড়ের বাইক্কা বিলসহ ১০টি সরকারি মাছের অভয়াশ্রম এখন চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। পলি ও বালি জমে বিলগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় মাছের বিচরণ ও স্বাভাবিক প্রজনন ক্ষেত্রগুলো কার্যত ধ্বংস হতে বসেছে। এতে বিপন্ন হয়ে পড়েছে হাওড়ের জীববৈচিত্র্য এবং বিলুপ্তির মুখে পড়েছে প্রায় ১৪৩ প্রজাতির দেশীয় মৎস্য সম্পদ।
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় দেশীয় মাছের বংশবৃদ্ধি ও বিচরণ সুরক্ষিত রাখতে এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম জলাভূমি হাকালুকি হাওড়ের কুলাউড়া, বড়লেখা ও জুড়ী অংশজুড়ে তেকুনিয়া বিল, মাইয়াজুড়ি বিল, কোয়ার কোনা বিল, মাইছলার ডাক বিল ও সানে মেদী বিলসহ মোট ৯টি বিলকে স্থায়ী অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০১১ থেকে শুরু করে সর্বশেষ ২০২৫ সালে সানে মেদী বিলের এক হেক্টর জলাশয়কে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর বাইরে শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওড়ে অবস্থিত ১১৮ হেক্টরের তিনটি বিল নিয়ে ২০০৩ সালে গঠিত 'বাইক্কা বিল' জেলা ও দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ পশুপাখি ও মাছের সংরক্ষিত অভয়াশ্রম হিসেবে বিবেচিত।
তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, দুই হাওড়ের প্রায় ২৫০ হেক্টর আয়তনের এসব অভয়াশ্রমে বছরের পর বছর পলি-বালি জমা হলেও কোনো কার্যকর খনন কাজ হয়নি। শুষ্ক মৌসুমে পানি শুকিয়ে যাওয়া এবং বর্ষাকালে অতিরিক্ত কচুরিপানা ও অনাকাঙ্ক্ষিত আগাছার কারণে অভয়াশ্রমগুলো এখন অরক্ষিত। হাওড়ের স্বাভাবিক প্রজনন গর্ত বা 'পকেট'গুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় একদিকে খাদ্য সংকট তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে হাওড়ের ঐতিহ্যবাহী রূপসী পদ্ম, শাপলাসহ বিরল জলজ উদ্ভিদও হারিয়ে যাচ্ছে। ফলে শীতের পরিযায়ী পাখিদের বিচরণও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
বাইক্কা বিল অভয়াশ্রমের দায়িত্বে থাকা বড় গাঙ্গিনা বিল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মিন্নত আলী বলেন, 'জরুরি ভিত্তিতে ড্রেজিং ও সরকারি তদারকি না বাড়ালে আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন এই অভয়াশ্রমের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।'
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কেন্দ্রীয় নেতা আ স ম সালেহ সোহেল আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, ইতিমধ্যেই আমাদের দেশীয় অনেক স্বাদু পানির মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কৃত্রিমভাবে দ্রুত পলি অপসারণ ও হাওড় খনন না করলে অবশিষ্ট প্রজাতিগুলোকেও রক্ষা করা যাবে না।
মৌলভীবাজারের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. আরিফ হোসেন অভয়াশ্রমগুলো পলি-বালিতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সত্যতা স্বীকার করে জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব বিল পুনঃখনের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং শিগগিরই প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু হবে।
অন্যদিকে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল এবং মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী যৌথ ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে বাইক্কা বিলসহ জেলার দশটি অভয়াশ্রমকে দ্রুত ড্রেজিংয়ের আওতায় এনে হাওড়ের প্রাণ-প্রকৃতি পুনরুদ্ধারের দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।