
চাঁদার দাবিতে যুবকের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে প্রকাশ্যে হুমকির অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:২৭

বিআরটি প্রকল্পের নির্মাণকাজের কারণে গাজীপুর ও উত্তরা এলাকার মানুষ দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে যানজট ও যাতায়াতের দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ছবি: সংগৃহীত
বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং এর পেছনের কারণ জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে ঢাকাস্থ গাজীপুর সাংবাদিক ফোরাম। প্রকল্পে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। ফোরামের আশঙ্কা, নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে নতুন করে মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে গাজীপুর ও উত্তরা এলাকায় যানজট এবং জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে ফোরামের সভাপতি ফয়সাল আলম ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল হক এসব দাবি জানান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, বিআরটি প্রকল্পের নির্মাণকাজের কারণে গাজীপুর ও উত্তরা এলাকার মানুষ দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে যানজট ও যাতায়াতের দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর প্রকল্পটি বাতিল করে নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে ৩+৩ লেনের মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত তাদের নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।
ফোরামের নেতারা বলেন, কী কারণে প্রকল্পটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এর পেছনে কী যুক্তি রয়েছে এবং এতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ জড়িত কি না, তা সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে। প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি, পরিকল্পনাগত ত্রুটি কিংবা অর্থের অপচয় হয়ে থাকলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করতে হবে। পাশাপাশি তদন্তের ফলাফলও জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানান তাঁরা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রকল্পের কোনো দুর্বলতা থাকলে তা সংশোধনের বিকল্প বিবেচনা না করে হঠাৎ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে ফেলার যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন।
ফোরামের নেতাদের আশঙ্কা, নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে নতুন করে নির্মাণকাজ শুরু হলে সংশ্লিষ্ট সড়কে যানজট ও জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে। এতে গাজীপুর ও উত্তরা এলাকার বাসিন্দাদের পাশাপাশি এ সড়ক ব্যবহারকারী ১৮ জেলার যাত্রী এবং পণ্য পরিবহনও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। জনগণের অর্থে নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে ফেলার আগে এর ব্যবহারযোগ্যতা, নতুন করে নির্মাণের ব্যয় এবং বিকল্প ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পর মানুষ এমন একটি কার্যকর পরিবহনব্যবস্থা প্রত্যাশা করে, যা যাতায়াতের সময় কমাবে এবং যানজট নিরসনে ভূমিকা রাখবে। প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জনস্বার্থ, আর্থিক দায় এবং দেশের যোগাযোগব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব যথাযথভাবে বিবেচনা করা উচিত।
ফোরামের নেতারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিআরটি প্রকল্প বাতিল ও নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে স্বচ্ছ মূল্যায়নের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে। গাজীপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ এবং ১৮ জেলার মানুষের যাতায়াতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত, সাশ্রয়ী ও কার্যকর পরিবহনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।