
৫ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, প্রথম ধাপ ২১ জানুয়ারি
অপূর্ব অপু, বরিশাল
প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫০

মশার প্রজননস্থলে পরিণত হয়েছে খাল। ছবি: সময় সংবাদ
ভ্যাপসা গরমে দরজা-জানালা বন্ধ করে মশারি টাঙিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। সন্ধ্যার অপেক্ষা তো দূরের কথা, দুপুরের কড়া রোদেও কয়েল জ্বালিয়ে মশার কামড় থেকে রেহাই মিলছে না। বরিশাল মহানগরীর ১১টি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার এক লাখের বেশি মানুষ মশার লাগামহীন উপদ্রবে অতিষ্ঠ। এর মধ্যে সাধুর বটতলা এলাকার লাকুটিয়া খালপাড় কলোনির জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে খালে জমে থাকা দূষিত পানির কারণে।
শতাধিক পরিবারের এই কলোনিতে সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার বেহাল দশার কারণে খালটি মশার প্রজননস্থলে পরিণত হয়েছে। দিনের বেলায় স্বাভাবিক কাজকর্ম করাও কঠিন হয়ে পড়েছে বাসিন্দাদের জন্য। কয়েল জ্বালিয়েও মশার উপদ্রব থেকে রেহাই মিলছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে খাল পরিষ্কার করা ও মশার ওষুধ ছিটানো হলেও মশার বিস্তার দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। কলোনির বাসিন্দা গৃহিণী ফাতেমা বেগম বলেন, ‘দিনের বেলাতেও ঘরে টিকতে পারি না। ছোট বাচ্চাদের মশারি টাঙিয়ে পড়ার টেবিলে বসাতে হয়। কয়েল জ্বালালেও মশারা যেন আরও কামড়াতে আসে। মশার কামড়ে বাচ্চাদের গায়ে ফুসকুড়ি ও ঘা হয়েছে। আর প্রায়ই জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে বাচ্চারা।’
কলোনির আরেক বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সিটি করপোরেশন থেকে মাঝেমধ্যে ওষুধ ছিটানো হলেও খালের কালো পানির দুর্গন্ধে এখানে থাকা দায়। মশার কারণে এই ময়লা পানি আরও বেশি কালো দেখায়। মাঝে মাঝে সিটি করপোরেশন থেকে ওষুধ দিয়ে যায়। কিন্তু তাতে মনে হয় মশা আরও বাড়ে।’
মশার উপদ্রব ও ডেঙ্গু আতঙ্কের কথা জানিয়ে তরুণ সায়েম বলেন, ‘সন্ধ্যার পর তো দূরের কথা, দিনের বেলাতেও ঘরে বসে থাকা যায় না। ডেঙ্গুর আতঙ্কে সবসময় তটস্থ থাকতে হয়। বাড়ির চারপাশের ঝোপঝাড় আর খালের দূষিত পানির কারণে পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে।’
মশার এমন উপদ্রবের প্রভাব পড়েছে বরিশালের স্বাস্থ্যখাতেও। বিভাগের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ক্রমেই বাড়ছে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, ‘বর্তমানে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসা রোগীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে। হাসপাতালে আসা প্রতিটি ডেঙ্গু রোগীকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছি। তবে মশার বিস্তার রোধ করা না গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।’
তবে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাসের দাবি, মহানগরীর পলাশপুর, রসুলপুর, মোহাম্মদপুর, কেডিসি কলোনি, ভাটারখাল ও লাকুটিয়া খালপাড় কলোনিসহ চিহ্নিত ১১টি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম চলছে। এসব এলাকায় ফগার মেশিনের মাধ্যমে নিয়মিত ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। নগরবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। কোনো এলাকা মশক নিধন কার্যক্রমের বাইরে থাকছে কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।