
সাংবাদিক হত্যার ঘটনায় দোষীদের চিহ্নিত করার আশ্বাস এসআরবি-১৪ অধিনায়কের
প্রতিবেদক, কক্সবাজার
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৫৫

উখিয়ায় বিজিবির অভিযানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও সরঞ্জামসহ আটক ব্যক্তিরা। ছবি: সময় সংবাদ
মিয়ানমার থেকে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে ইয়াবা পাচারে এবার ব্যবহার করা হচ্ছিল বিশেষ ‘ডুবন্ত সাবমেরিন’। কাঠের তৈরি বিশেষ এই ডুবন্ত ক্যারিয়ার ও প্রযুক্তির সহায়তায় পানির নিচ দিয়ে ইয়াবা পাচারের সময় বিদেশি পিস্তল, গুলো ও বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ তিনজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধার করা হয়েছে মাদক চোরাচালানে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে উখিয়ায় ৬৪ বিজিবির মিডিয়া হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম।
এর আগে সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে উখিয়ার আঞ্জুমানপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন উখিয়া উপজেলার বালুখালী রহমতের বিল এলাকার মো. রকি আহমেদ (২৬), নলবনিয়া এলাকার বেলাল উদ্দিন (৩৫) ও মধ্যম ফারির বিল এলাকার খোরশেদ আলম (২৬)। তাঁদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটো ম্যাগাজিন, ১১ রাউন্ড গুলো, ২ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা, একটি মোবাইল ফোন, ৯টি কপিকল, বিশেষ ধরনের একটি ডুবন্ত ক্যারিয়ার, প্রায় দুই কিলোমিটার স্টিলের তার, একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারি ও একটি ইলেকট্রিক মোটর জব্দ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বিজিবি জানায়, গেল ১২ অক্টোবর রাতে পালংখালী বিওপির একটি টহল দল উখিয়ার আঞ্জুমানপাড়া এলাকায় মনিরের ঘেরের একটি মাচাং ঘরের পাশে ৪-৫ জন ব্যক্তিকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখে। এ সময় বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করলে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করে। পরে ধাওয়া দিয়ে দুজনকে আটক করা হয়। তাঁদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্র, গুলো ও মাদক পাচারের বিভিন্ন সরঞ্জামসহ আরও একজনকে আটক করা হয়।
বিজিবির দাবি, উদ্ধার হওয়া এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে পানির নিচ দিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা বাংলাদেশে পাচার করা হচ্ছিল। জব্দ করা সরঞ্জাম পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, এ ধরনের একটি ডুবন্ত ক্যারিয়ারে একসঙ্গে প্রায় ৩০ লাখ ইয়াবা পরিবহন করা সম্ভব। চক্রটি মিয়ানমার থেকে ডুবন্ত ক্যারিয়ারের মাধ্যমে নাফ নদী পার করে ইয়াবার চালান সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়ে আসত। এরপর ইলেকট্রিক মোটর, স্টিলের তার ও কপিকলের সাহায্যে পানির নিচ দিয়ে টেনে পালংখালীর ফাইস্যা খাল হয়ে বাংলাদেশের প্রায় এক কিলোমিটার অভ্যন্তরে প্রবেশ করাত।
বিজিবি আরও জানায়, ফাইস্যা খালটি আঁকাবাঁকা হওয়ায় চোরাকারবারিরা কপিকল ও স্টিলের তার ব্যবহার করে পানির নিচের পথকে কয়েকটি সরল অংশে ভাগ করে নিত। এতে পানির ওপর থেকে ক্যারিয়ারটি সহজে চোখে না পড়লেও নির্দিষ্ট পথে তা টেনে আনা সম্ভব হতো। এমনকি নজরদারি এড়াতে চক্রের এক সদস্য পানিতে হাত দিয়ে মাছ ধরার অভিনয় করে ডুবন্ত ক্যারিয়ারটির সঙ্গে সঙ্গে চলাচল করতেন। প্রতিটি বাঁক অতিক্রম করার সময় ছোট কপিকলগুলো বড় স্থায়ী কপিকল থেকে খুলে নিয়ে পরবর্তী অংশে স্থাপন করা হতো। এভাবে ধাপে ধাপে মিয়ানমার সীমান্ত থেকে বাংলাদেশের প্রায় দেড় কিলোমিটার অভ্যন্তরে নিয়ে আসা হতো মাদকের চালান।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে উখিয়া থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এর আগে গেল ৯ সেপ্টেম্বর টেকনাফের হ্নীলা এলাকায় নৌকার মাধ্যমে রশি দিয়ে পানিতে ডুবিয়ে টেনে নেওয়ার সময় ১৪ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছিল। এবারও একই কৌশলের আরও উন্নত সংস্করণ ব্যবহার করে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে বিজিবি।
এদিকে ৬৪ বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মাদকবিরোধী বিভিন্ন অভিযানে আনুমানিক ১ কোটি ৬৬ লাখ ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ২২৮ জনকে আটক করেছে বিজিবি।