
সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে মন্ত্রিসভায় আলোচনা
প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৫৫

সিসিটিভির ফুটেজের একটি চিত্র; ইনসেটে নিহত সাহেব আলী। ছবি: সংগৃহীত
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে সহযোগীদের গুলিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ডাকাত সর্দার সাহেব আলী (৫০) নিহত হয়েছেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের বউবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়।
এদিকে সাহেব আলীকে গুলি করার একটি রোমহর্ষক ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি একটি কালভার্টের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র হাতে সাহেব আলীকে ধাওয়া করছে। একপর্যায়ে কালো টি-শার্ট পরিহিত এক যুবক গোলাপী রঙের গেঞ্জি পরা সাহেব আলীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।
গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি বাঁচার জন্য কালভার্ট থেকে খালের পানিতে ঝাঁপ দেন। তখন ওই যুবক খালের পানিতে থাকা সাহেব আলীকে লক্ষ্য করে আরেকটি গুলি চালায়। গুলির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন রাস্তায় বেরিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে সাহেব আলীর দুই সহযোগী রনি ও আসলাম বউবাজার এলাকায় একত্রিত হয়। পরে তারা সাহেব আলীকে লক্ষ্য করে পরপর দুটি গুলি ছোড়ে। একটি গুলি তার মাথায় এবং অপরটি বুকে বিদ্ধ হলে শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে স্বজনরা মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক জানান, অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে দুই সহযোগী রনি ও আসলামের গুলিতে সাহেব আলী নিহত হয়েছেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, নিহত সাহেব আলী সিদ্ধিরগঞ্জের তালিকাভুক্ত শীর্ষ অপরাধী ও ডাকাত সর্দার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সাহেব আলী ও তার সহযোগীরা একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়েছিল। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি, ছিনতাই, অস্ত্র, মাদক এবং পুলিশের ওপর হামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত ২০টি মামলা রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানান, সাহেব আলীর সঙ্গে তার সহযোগীদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল চলছিল। এর জেরেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। সিসিটিভি ও ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।