
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৬০০ ছাত্রীকে সাইকেল উপহার
ফারুক ভুঁইয়া রবিন
প্রকাশ: রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৯

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ছবি: সময় সংবাদ
পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রাকৃতিক প্রভাব কেমন? জলাধার বা পরিবেশে কী কী পরিবর্তন হয় প্ল্যান্ট চালুর পর? দশকের পর দশক ধরে চলা নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের আশেপাশের জীববৈচিত্র্যের পরিস্থিতিইবা কেমন?
পদ্মাপাড়ে দাঁড়িয়ে যেমন দেখায় পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, রাশিয়ার উদোমলিয়া লেক থেকে ঠিক তেমনই দেখতে কালিনিন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট। চার দশক আগে নির্মিত এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের লেকে অন্তত ৩০ প্রজাতির বেশি মাছের বিচরণ রয়েছে। প্রজনন আর বংশবিস্তার বিবেচনায় মার্চ থেকে মে-- এই তিন মাস ছাড়া বছরের পুরো সময়েই লেকে মাছ ধরে মানুষ।
এই লেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রভাব কেমন? তা নির্ণয়ে নিয়মিতই গবেষণা ও সমীক্ষা চালায় প্ল্যান্ট কর্তৃপক্ষ। যেখানে দেখা যায়, কোনো নেতিবাচক প্রভাব নেই প্রাণপ্রকৃতিতে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির আশেপাশের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্যও স্বাভাবিক। এমনকি উদোমলিয়া জলাধারে মাছের আনুমানিক মজুত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪০ টনে। লেকটিতে পানির স্বচ্ছতা দেড় মিটার পর্যন্ত। প্ল্যান্টটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আন্দ্রে ইউ. ডানিউকিন বলছেন, অন্যান্য প্রাকৃতিক জলাশয়ের তুলনায় অনেক সূচকে ভালো অবস্থানে বিদ্যুৎকেন্দ্র লাগোয়া এই লেক।
কালিনিন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিবেশ সুরক্ষা বিভাগের প্রধান আন্দ্রে ইউ. ডানিউকিন বলেন, এই লেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ১ হাজার কিলোমিটার দূরে থাকলে যেমন নিরাপদ থাকত, এখানেও ঠিক একই অবস্থায় আছে। এখানকার মাছগুলো বড়। মাছের বিস্তারও যথেষ্ট পরিমাণে হচ্ছে। সার্বিকভাবে উদোমলিয়ার পরিবেশ বেশ ভালো। এর মানে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রাণ-প্রকৃতির জন্য নিরাপদ।
কালিনিন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের তথ্য, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে অর্ধশত সংরক্ষিত প্রাকৃতিক এলাকা, এর মধ্যে ৩৩টি সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ। এছাড়া, উদোমলিয়া পৌর এলাকায় ২২০টির বেশি প্রজাতির পাখির আবাস; আর উদ্ভিদ রয়েছে ৯১১ প্রজাতির।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রর পাশেই বিশাল জলাশয়ে মাছের অবাধ বিচরণ। আর এসব নজিরই প্রমাণ করে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রাণ-প্রকৃতিকে অনেকটা নিরাপদে রাখে। আর এসবের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকরা আশাবাদী, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেও নিরাপদে দশকের পর দশক ধরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আর পরিচ্ছন্ন জ্বালানি হওয়ায় পরিবেশের ওপর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রভাব নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট পরিবেশবান্ধব। কালিনিন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশে পানিতে মাছ ধরা হচ্ছে, জীববৈচিত্র্যের একটা সহাবস্থান রয়েছে। আমাদের রূপপুরের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হওয়ার সুযোগ নেই। রূপপুরের জন্য প্রাণ-প্রকৃতির বিঘ্ন ঘটার সুযোগ নেই।
সব ঠিক থাকলে আগামী মাসেই পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হতে পারে রূপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের প্রথম ইউনিট।