
গাজীপুরে ময়লার স্তূপে পড়ে থাকা বস্তু হাতে নিতেই বিস্ফোরণ, বিচ্ছিন্ন আঙুল
প্রতিবেদক, পিরোজপুর
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:৪০

পিরোজপুরের দুর্গাপুর গ্রামে খামারে হাঁসের পরিচর্যা করছেন এক খামারি। ছবি: সময় সংবাদ
হাঁস পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন পিরোজপুরের দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দারা। গ্রামজুড়ে হাঁস পালনের এমন সাফল্যের কারণে এলাকাটি এখন সবার কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছে ‘হাঁসের গ্রাম’ নামে। শুধু হাঁস পালন ও ডিম বিক্রি করে এ গ্রামের দুই শতাধিক পরিবার এখন প্রতি মাসে আয় করছে কয়েক লাখ টাকা।
পিরোজপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার উত্তরে দুর্গাপুর গ্রাম। পিরোজপুর-নাজিরপুর সড়কের টেক্সটাইল বাসস্ট্যান্ডে নেমে কিছুটা হেঁটে গেলেই চোখে পড়ে সারিবদ্ধ হাঁসের খামার। এ গ্রামের বাসিন্দা আবুজর মৃধা মাত্র ১৪টি হাঁস নিয়ে খামার শুরু করেছিলেন। বর্তমানে তার খামারে রয়েছে কয়েক হাজার হাঁস। শুধু আবুজর মৃধা নন, তার মতো জোবায়ের, শফিক ও আরিফসহ গ্রামের শত শত নারী-পুরুষ এখন হাঁস পালন করে সফলতা পেয়েছেন।
এলাকায় নদী-নালা ও খাল-বিল বেশি থাকায় জায়গাটি হাঁস পালনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বিশেষ করে খোলা জমি ও খাল-বিলে চরে হাঁস প্রাকৃতিকভাবে খাবার সংগ্রহ করায় খামারিদের বাড়তি খাবারের পেছনে তেমন খরচ করতে হয় না। ফলে হাঁস পালনে লাভের পরিমাণও অনেক বেশি।
খামারি আবুজর মৃধা বলেন, ‘শুরুতে ১৪টি হাঁস দিয়ে খামার শুরু করলেও এখন খামারে হাঁসের সংখ্যা কয়েক হাজার। শুধু হাঁস পালনই নয়, নিয়মিত ডিম ও হাঁসের বাচ্চা বিক্রি করি। এতে প্রতি মাসে আমার কয়েক লাখ টাকা আয় হচ্ছে।’
গ্রামের আরেক খামারি জোবায়ের বলেন, ‘দুর্গাপুরে শত শত পরিবার হাঁস পালন করে জীবিকা নির্বাহ করছে। এখানে ছোট-বড় মিলিয়ে দুই শতাধিক খামার গড়ে উঠেছে। মাঠে-ঘাটে ঘুরে হাঁস প্রাকৃতিকভাবে খাবার খাওয়ায় অতিরিক্ত দামে বাড়তি খাবার কিনতে হয় না। তাই আমাদের লাভ বেশি হয়।’
এ বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তরুণ কুমার শিকদার জানান, এলাকার অনেকেই হাঁস পালনকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে তাদের নিয়মিত উৎসাহ, পরামর্শ ও রোগ প্রতিরোধে সহায়তা দেয়া হচ্ছে। এতে হাঁস পালন করে স্বাবলম্বী হয়ে অনেক পরিবারে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফিরেছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় তিন হাজার খামারি রয়েছেন এবং মোট হাঁসের সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ।