
পাবনায় আলোচিত দাদি-নাতনি হত্যার বিচারকাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে
প্রতিবেদক, বরিশাল
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:৪৬

বরিশালের বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) সাত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন একজন রাজমিস্ত্রী।
পোশাকের অপব্যবহার, মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন, অবৈধ আটক ও শিশু অপহরণের অভিযোগ এনে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে মামলাটি দায়ের করেন রাজমিস্ত্রী জালিস মাহমুদ।
বিচারক সৈয়দ আবিদুল হক মামলাটি আমলে নিয়ে এএসপি মর্যাদার নিচে নন- এমন একজন কর্মকর্তাকে দিয়ে অভিযোগের তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বরিশাল পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন।
জালিস মাহমুদ বানারীপাড়া উপজেলার মহিষাপোতা গ্রামের ফকির বাড়ির সহিদুল ইসলামের ছেলে।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন বানারীপাড়া থানার ওসি মজিবুর রহমান ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জাহিদ। এ ছাড়া ৪-৫ জন পুলিশ সদস্যকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
মামলার নথি এবং আদেশ সূত্রে জানা গেছে, রাজমিস্ত্রী জাসিল মাহমুদ তার স্ত্রী পপি আক্তারকে তালাক দিলে পপি তার বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা করেন। পরে বাদী বকেয়া খোরপোষ ও দেনমোহরসহ সকল পাওনা পরিশোধ করে মামলা থেকে খালাস পান।
এদিকে জালিছ মাহমুদ ও তার সাবেক স্ত্রী পপি আক্তারের দাম্পত্য জীবনে ‘হুমায়রা জান্নাত’ নামের তিন বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান রয়েছে। পপি তালাকের পরে অন্যত্র বিয়ে করেন। এ কারণে শিশু কন্যা তার বাবা জালিস মাহমুদের বাড়িতে ছিল।
হঠাৎ করে গত ১২ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে বানারীপাড়া থানার ওসির নির্দেশে উপ-পরিদর্শক মো. জাহিদ ৪-৫ জন পোশাকধারী পুলিশ সদস্য নিয়ে জালিস মাহমুদকে তার বাড়ির সামনে থেকে আটক করে। এসময় এসআই জাহিদ, জালিস মাহমুদের গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা তাকে মারধর করে।
বাদী জানান, তার সাবেক স্ত্রী থানায় মামলা দায়ের করেছেন বলে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এমনকি নাবালিকা কন্যা সন্তানের আইনানুগ অভিভাবক হওয়া স্বত্ত্বেও মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে এবং থানায় দীর্ঘসময় আটকে রেখে ওসির নির্দেশে শিশুকন্যাকে সাবেক স্ত্রীর জিম্মায় দেয়া হয় বলে অভিযোগ জালিসের।
এ বিষয়ে বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, 'দুই বছর ৮ মাস বয়সী কন্যা সন্তানটি খুব অসুস্থ। তার মাতৃস্নেহে সুস্থ হওয়া প্রয়োজন। তাই শিশুটিকে চিকিৎসা করাতে মায়ের জিম্মায় দেয়া হয়েছে।'