
পদত্যাগ না করা পর্যন্ত উপাচার্য ড. শরীফুলকে অবরুদ্ধ রাখার ঘোষণা শিক্ষার্থীদের
প্রতিবেদক, ফরিদপুর
প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৩১

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে দুদকের অভিযান। ছবি: সময় সংবাদ
ফরিদপুর বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ (ফমেক) হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযানকালে হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রায় ৯ কোটি টাকা মূল্যের ক্যাথল্যাব যন্ত্র চালু না করেই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে বিল পরিশোধসহ নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার তথ্য প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর থেকে হাসপাতালে এ অভিযান শুরু হয় এবং বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত তা চলমান ছিল। ফরিদপুর জেলা সমন্বিত দুর্নীতি দমন কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোস্তাফিজের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি দল এ অভিযানে অংশ নেয়। অভিযান শেষ হতে রাত ৮টার বেশি সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা।
অভিযান চলাকালে বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন দুদক কর্মকর্তারা। এ সময় রোগীরা হাসপাতালে নানা হয়রানি ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলে ধরেন। এর মধ্যে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে না পারা, টাকা ছাড়া ট্রলি না পাওয়া, সময়মতো চিকিৎসক না পাওয়া এবং সরকারি ওষুধ না পাওয়ার মতো একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া দুদকের দলটি হাসপাতালের বিভিন্ন সময়ের মালামাল ক্রয়ের নথিপত্র পর্যবেক্ষণ করে এবং দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা বিভিন্ন যন্ত্রপাতির বিষয়ে খোঁজখবর নেয়। এ সময় হাসপাতালটির কার্ডিওলজি বিভাগের ৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা মূল্যের ক্যাথল্যাব যন্ত্রটি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো পড়ে থাকার তথ্য যাচাই করা হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কার্ডিওলজি বিভাগের এই ক্যাথল্যাব মেশিনটি ‘ফিলিপস ইলেকট্রনিকস বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড’-এর মাধ্যমে কেনা হয়। ২০১৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মেশিনটি বুঝে পায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এরপর অত্যাধুনিক যন্ত্রটি স্থাপন করা হলেও দীর্ঘ প্রায় ১০ বছরেও তা চালু করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, যন্ত্রটির মাধ্যমে হার্টে রিং পরানো, এনজিওগ্রামসহ হৃদরোগ চিকিৎসায় বিভিন্ন জটিল পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও কাজ করা হয়ে থাকে।
অভিযানের সময় দুদকের কর্মকর্তাদের প্রশ্নের মুখে হাসপাতালের দায়িত্বরত ইলেকট্রো মেডিকো টেকনিশিয়ান মাঈনুল ইসলাম জানান, মেশিনটি স্থাপনের পর তা চালু করে বুঝিয়ে দেয়ার কথা ছিল ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের। কিন্তু তৎকালীন কর্তৃপক্ষ যন্ত্রটি চালু না করেই সম্পূর্ণ টাকা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধ করে দেয়। তবে চালু না করে কী কারণে টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।
তিনি আরও দাবি করেন, মেশিনটি চালুর বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। সর্বশেষ গত ১১ মার্চ মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে জানিয়ে তিনি চিঠির একটি অনুলিপিও উপস্থাপন করেন।
এ বিষয়ে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় ফরিদপুরের সহকারী পরিচালক মো. মোস্তাফিজ জানান, হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীদের চিকিৎসা প্রদানে হয়রানি, দালাল চক্রের মাধ্যমে রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো, আউটসোর্সিং নিয়োগে অনিয়ম এবং মালামাল ক্রয়-বিক্রয়সহ নানা দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযান শেষ হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।