
থানায় ঢুকে পুলিশ পেটানো সেই যুবক জেল হাজতে
প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:৫৪

সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হিন্দু সম্প্রদায়ের নারীরা। ছবি: সময় সংবাদ
শারদীয় দুর্গোৎসবের আজ বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমী। এদিন দেবীদুর্গাকে কৈলাসে বিদায় জানার মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুরোহিতের মন্ত্রে সকাল ৯টার দিকে দর্পণ বিসর্জন করা হয়। দেবীকে সিঁদুর দিয়ে বরণের পর সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন নারীরা। একে অপরের সিথিঁতে সিঁদুর পরিয়ে দেন। এ সময় তারা পরিবার এবং দেশের প্রতিটি মানুষকে সুখে শান্তিতে যেন রাখেন মা দূর্গার কাছে এমনটাই প্রার্থনা করেন।
ভক্তরা জানান, বিজয়া দশমীর দিনে জগৎজননী মা দুর্গাদেবী মহিসাসুরকে পরাজিত করে বিজয় অর্জন করায় বিজয়ের আনন্দে মেতে উঠেছেন তারা। অপরদিকে মায়ের বিদায়ের বেলায় বুকফাটা বেদনা তাদের মাঝে বিরাজ করছে। তবে তাদের মাঝে শান্তনাও রয়েছে, কেন না আসছে বছর মা আবার আসবে। তাই বিজয়ের আনন্দ আর সিঁদুর খেলার মধ্য দিয়ে বিজয়া দশমী উদ্যাপন চলে।
শহরের দাসপাড়া, রাম ঠাকুর ক্লাব, গগন সাহারবাড়ী রোড সার্বজনীন পূজামণ্ডপ, পুষ্পাঞ্জলি সংসদ, টাউন সর্বজনীন পূজা কমিটি, ঐক্যতান যুব সংঘে সিঁদুর খেলায় অংশ নেয় সদপা রমনীরা।
গগন সাহারবাড়ী রোড সার্বজনীন পূজামণ্ডপে সিঁদুর খেলায় অংশ নেয়া মায়ের আশীর্বাদ গ্রহণকারী সাথী বণিক বলেন, ‘মাকে প্রণাম জানিয়ে প্রার্থনা করেছি, মা যেন আগামী বছর আবারো সুখ শান্তির বার্তা নিয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসেন। পাশাপাশি আমাদের নিজের পরিবার এবং এবং দেশের মানুষ যেন ভালো থাকে সেই প্রার্থনা করেছি।’
দীপ্তি সাহা নামে অপর এক নারী বলেন, ‘মা প্রতিবছরই ভক্তদের জন্য আশীর্বাদ নিয়ে আসেন। এবারও ভক্তদেরকে তিনি আশীর্বাদ করে গেছেন। মায়ের বিদায়ের সময় বুকফাটা কান্না এসেছে। তবে এই ভেবে বুক ফাটা কান্না চাপা দিয়েছি, মাতো আগামী বছর আবারো আসছেন আমাদের মাঝে।’
মায়ের কাছে আশীর্বাদ নিতে আসা সুবর্ণা ভৌমিক বলেন, ‘মা সর্বত্রই বিরাজমান। আমাদের সুখে দুঃখে মা সবসময় পাশে থাকেন। তারপরও বিশেষ দিনে বিজয়া দশমীতে মা প্রতিবছর আমাদেরকে আশীর্বাদ করে যান। আমারও মায়ের কাছে প্রার্থনা করি, মা যেন আমাদেরকে স্বামী সংসারে পুরো বছর জুড়ে ভাল রাখেন।’
শহরের গগন সাহারবাড়ী পূজামণ্ডপের পুরোহিত রতন চক্রবর্তী বলেন, ‘দেবীদুর্গা অশুভ শক্তি অসুরকে পরাজিত করায় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিটি ভক্তকূলে বিজয়ের আনন্দ বিরাজ করছে। অন্যদিকে মায়ের বিদায়ের কালে প্রতিটি ভক্তের মনে বিষাদের বেদনা বিরাজ করছে। বুধবার সকালে দর্পন বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় মূল আনুষ্ঠানিকতা। তবে ক্ষেত্র বিশেষে দেশাচার ও চিরায়িত রিতি অনুযায়ী দশমীর আনুষ্ঠানিকতা পালন করছেন ভক্তরা। এর মধ্য দিয়ে ভক্তদের আর্শিবাদ করে দেবীদুর্গা আবারো ফিরে গেছেন কৈলাসে স্বামীগৃহে এমনটাই বিশ্বাস সবার।’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে অপেক্ষা আবারো এক বছর পর। মা-দুর্গা সুখ শান্তির বার্তা নিয়ে ফিরে আসবেন ভক্তদের মাঝে। এবছর মা ঘোটকে আগমন করেছিলেন, বিদায় বেলায় নৌকায় গমন করেছেন। এর মধ্যে দিয়ে ভক্তদের জন্য রেখে গেলেন একরাশ আশীর্বাদ।’