
চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কঠোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
প্রতিবেদক, বগুড়া
প্রকাশ: রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২১:২৫

নিহত শাহেদ আলম। ছবি: সংগৃহীত
স্বজনদের সঙ্গে আনন্দের ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরছিলেন প্রবাসী শাহেদ আহমেদ (৩২)। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছালেও কাজে আর ফেরা হলো না তাঁর। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এই তরুণ প্রবাসীর।
রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল পাঁচটার দিকে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা এলাকায় শাহেদের মৃত্যুর খবর পৌঁছালে তার পরিবার ও পুরো গ্রামে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহত শাহেদ আহমেদ বগুড়া পৌরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের মাদলা মণ্ডলপাড়ার রফিকুল ইসলাম মিঠুর ছেলে। তিনি গত তিন বছর ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শাহেদের বাবা রফিকুল ইসলাম দীর্ঘ ২০ বছর ধরে সৌদি প্রবাসে রয়েছেন। বাবার সুবাদেই তিন বছর আগে সেখানে যান শাহেদ। দুই মাস আগে ছুটিতে দেশে এসেছিলেন তিনি। গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ছুটির মেয়াদ শেষে আবারও সৌদির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন তিনি। অপরদিকে শাহেদের মা তিন মাস আগে ওমরাহ পালনে সৌদি আরব যান, যাঁর আগামী ১৪ অক্টোবর দেশে ফেরার কথা ছিল। বাবা-মা দুজনই বর্তমানে সৌদির দাম্মাম শহরে অবস্থান করছেন এবং তারা নিরাপদ রয়েছেন।
নিহতের স্বজনরা জানান, দুই ভাইবোনের মধ্যে শাহেদ ছিলেন একজন। তাঁর ছয় ও দশ বছর বয়সী দুটি অবুঝ সন্তান রয়েছে। উর্পাজনক্ষম একমাত্র অবলম্বনকে হারিয়ে অবুঝ দুই সন্তানকে নিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে অসহায় পরিবারটি। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।
শাহেদের স্ত্রী কাকলি আক্তার আকুল কণ্ঠে বলেন, 'শনিবার (১০ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল পাঁচটার দিকেও তার সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল। এরপর আর কোনো যোগাযোগ করতে পারিনি। সরকারের কাছে আমার একটাই আকুতি, আমার স্বামীর মরদেহে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হোক।'
এ বিষয়ে মাদলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান জানান, খবর পেয়ে তিনি নিহতের বাড়িতে গিয়েছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল জানান, রিয়াদে হামলায় বগুড়ার শাহেদ নামে এক প্রবাসীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।