
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হলেন গিয়াস উদ্দিন
ফারুক ভূঁইয়া রবিন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২:২২

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ফাইল ছবি
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা)। পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু এগোলে আগামী ডিসেম্বরের শেষে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে এ ইউনিট থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বায়েরা এ অনুমোদন দেয়। বায়েরা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সংযুক্ত করার আগে আরও দুটি অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।’
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রথম ইউনিটের স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমনের সেফটি ভালভের (পিওআরভি/পিওএসভি) জটিলতার কারণে এত দিন এ অনুমোদন আটকে ছিল। পরে রাশিয়া থেকে বিশেষজ্ঞ দল এসে বিভিন্ন কৌশলে সমস্যাটির সমাধান করে। এরপর বিভিন্ন পরীক্ষা চালানো হলে সেফটি ভালভটি সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়। এর পরই প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমোদন দেয়া হলো।
বায়রার অনুমোদনের ফলে প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টরে পারমাণবিক জ্বালানি লোড করা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের মহড়া শুরু করা যাবে। কর্মকর্তারা বলছেন, এসব কার্যক্রম ধাপে ধাপে এগিয়ে নিয়ে আগামী ডিসেম্বরের শেষে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
গত ২৮ এপ্রিল রূপপুরের প্রথম ইউনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়াম লোডিং বা ‘ফিজিক্যাল স্টার্টআপ’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এরপর বিভিন্ন পরীক্ষা ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের মধ্যদিয়ে ইউনিটটি চালুর প্রস্তুতি এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।
এদিকে গত ৩ অক্টোবর রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান প্রকল্প এলাকায় এসে পৌঁছেছে। প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতির পাশাপাশি দ্বিতীয় ইউনিটের কাজও এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।
রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় পাবনার রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
প্রকল্পের আওতায় রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রোসাটমের সহযোগী প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে। রূপপুরে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিট থেকে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট করে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকবে।