
ভারতের কাছে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
মহানগর ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৩

ম্যানিলায় এডিবির সদর দফতরে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন।
বাংলাদেশে সামাজিক সুরক্ষা, লিঙ্গসমতা, ফ্যামিলি কার্ড এবং প্রবীণ জনগোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদি যত্ন নিয়ে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়।
সোমবার (৫ অক্টোবর) ফিলিপাইনের ম্যানিলায় এডিবির সদর দফতরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, এমপি এবং মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নারগিস খানম।
বৈঠকে তাদের সঙ্গে ছিলেন এডিবির বাংলাদেশ কার্যালয়ের প্রিন্সিপাল সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অফিসার (জেন্ডার) নাশিবা সেলিম। এডিবির পক্ষে ছিলেন জেন্ডার ইকুয়ালিটি ডিভিশনের (সিসিএসডি) পরিচালক কেইকো নওয়াকা, জেন্ডার স্পেশালিস্ট ও দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক জেন্ডার ফোকাল কেটেভান চখেইদজে এবং সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অফিসার (জেন্ডার) তাহরিমা টি. আহমেদ।
বৈঠকে তিনটি বিষয়ে কৌশলগত অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে প্রথমেই আসে সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি। প্রতিমন্ত্রী কর্মসূচিটির নারী-কেন্দ্রিক বৈশিষ্ট্যের ওপর গুরুত্ব দেন এবং এর জেন্ডার-সংবেদনশীল বাস্তবায়ন আরও শক্তিশালী করতে এডিবির কারিগরি সহায়তার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে পরিবারকে একটি একক হিসেবে বিবেচনা করে মা বা নারীপ্রধানকে প্রধান উপকারভোগী হিসেবে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। কর্মসূচিতে সরাসরি আর্থিক সহায়তার সঙ্গে ভর্তুকি মূল্যে প্রয়োজনীয় পণ্য দেয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। দীর্ঘ মেয়াদে ফ্যামিলি কার্ডকে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা পাওয়ার একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
তিনি আরও জানান, সরকার বর্তমানে কর্মসূচিটি সারা দেশে সম্প্রসারণ করছে। আগামী এক বছরের মধ্যে ৪১ লাখ পরিবারকে এর আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। কর্মসূচির সম্প্রসারণের প্রেক্ষাপটে এর আওতা, উপকারভোগী নির্বাচন ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়াতে এডিবির সহায়তার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে প্রবীণ ব্যক্তি এবং যেসব পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত পরিচর্যার প্রয়োজন, তাদের চাহিদা সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় কীভাবে আরও কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, তা নিয়ে কথা হয়।
দ্বিতীয় বিষয় ছিল যত্নসেবা খাত। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান প্রবীণ জনগোষ্ঠীর প্রেক্ষাপটে দীর্ঘমেয়াদি যত্নের চাহিদা মোকাবিলায় এ খাতকে পেশাদার করার বিষয়টি আলোচনায় আসে। দক্ষ যত্নসেবাকর্মী তৈরি করা গেলে দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারেও তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আলোচনা হয়।
তৃতীয় বিষয় ছিল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক উদ্যোগ। বয়স্ক নারী, চরের মতো ভৌগোলিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দা এবং চা-বাগান এলাকার শ্রমিকদের বিশেষ চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়।
পরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদল এডিবির সেক্টরস বিভাগের উপমহাপরিচালক আয়াকো ইনাগাকির সঙ্গে বৈঠক করে। সেখানে বাংলাদেশের পরিবর্তিত সামাজিক সুরক্ষা অগ্রাধিকার এবং জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের কারণে তৈরি হওয়া নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে এডিবির ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে জনসংখ্যার বার্ধক্য ও দীর্ঘমেয়াদি যত্নের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এডিবির সহায়তা আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
বৈঠকে এডিবি ও বাংলাদেশের যৌথভাবে প্রকাশ করতে যাওয়া ‘দ্য লং-টার্ম কেয়ার ডায়াগনস্টিক ফর দ্য এল্ডারলি পপুলেশন’ প্রতিবেদনের কথাও উল্লেখ করা হয়। প্রবীণ জনগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান যত্নের চাহিদা মোকাবিলায় প্রতিবেদনে বাস্তবভিত্তিক সুপারিশ থাকবে বলে জানানো হয়।
আগামী দিনে এডিবির সহায়তা আরও দেশভিত্তিক ও লক্ষ্যনির্দিষ্ট করার ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। বাংলাদেশ রেসিডেন্ট মিশনের মাধ্যমে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত নীতিগত সংলাপ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।
বৈঠকে সামাজিক সুরক্ষা, দীর্ঘমেয়াদি যত্ন ও দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। এ ধরনের সহযোগিতা গবেষণা ও নীতিগত সুপারিশের সঙ্গে বাস্তবায়নের ব্যবধান কমাতে পারে। পাশাপাশি পরিবর্তিত জনমিতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন উদ্যোগ পরীক্ষামূলকভাবে চালু ও পরে বড় পরিসরে বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে।