
জমি দখল কিংবা চাঁদাবাজি করতে যাইনি, মাদক নির্মূলে গিয়েছিলাম: ইশরাক
ব্রেকিং
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:১৬

ওসমানী উদ্যানে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়েও অংশ না নেওয়ায় বিরোধীদলের কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিরোধীদল জুলাইকে ধারণ না করায় আমন্ত্রণ পেয়েও অনুষ্ঠানে অংশ নেয়নি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় ওসমানী উদ্যানে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মোস্তাফিজুর রহমান, শাহারিয়ার খাঁন আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি এবং ওয়াসিম আকরামের বাবা মোহাম্মদ শফিউল আলমকে সঙ্গে নিয়ে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করেন তিনি।
উদ্বোধনের পর স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি আধুনিকায়নকৃত ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করেন এবং উদ্যানের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। পরে আলোচনা সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।
‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বিরোধীদলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে তারা এই অনুষ্ঠানে অংশ না নেয়ায় কঠোর সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠানটি জুলাইয়ের আত্মত্যাগকারী মানুষদেরকে নিয়ে। সরকারের পক্ষ থেকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি যারা তাদেরকে যেমন দাওয়াত দেয়া হয়েছে, ঠিক একইভাবে বিরোধীদলের নেতাসহ বিরোধীদলের যারা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তাদেরকেও দাওয়াত দেয়া হয়েছে।
বিরোধীদল যদি জুলাইকে ধারণ করত তাহলে অনুষ্ঠানে অংশ নিতো উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা যদি সত্যিকারভাবে জুলাইকে ধারণ করতেন তাহলে এখানে এসে জুলাই শহীদদের মানুষগুলোর সাথেও তো বসতে পারতেন। কোথায়? আমরা তো আজকে আপনাদেরকে দেখছি না। সরকারের সাথে আপনাদের দূরত্ব আছে, থাকুক দূরত্ব। কোনো সমস্যা নাই। যদি দূরত্ব আপনারা রাখতে চান কোনো সমস্যা নাই। কিন্তু যেই মানুষগুলোর জন্য আজকে আপনারা বিরোধীদলের আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছেন, যেই মানুষগুলো জীবন উৎসর্গের কারণে, যেই মানুষগুলো আহত হওয়ার কারণে, যে মানুষগুলো চোখ হারানোর কারণে আজ আপনারা বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে মানুষের কাছে পরিচিতি লাভ করেছেন, বিরোধীদলের সংসদ সদস্য হিসেবে মানুষের কাছে পরিচিতি লাভ করেছেন। সেই মানুষগুলোর মাঝেও তো আমরা আপনাদেরকে দেখতে পাচ্ছি না।
বিএনপি জুলাইকে ধারণ করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে অনুষ্ঠানটি আমরা করছি কাদেরকে নিয়ে? জুলাইতে যারা শহীদ হয়েছেন সেই শহীদদেরকে ঘিরে। হ্যাঁ, সরকার একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে শহীদদেরকে নিয়ে। বিএনপি সবসময় বলে, বিএনপি জুলাইকে ধারণ করে। বিএনপি যেভাবে ৭১-কে ধারণ করে, ঠিক একইভাবে জুলাইকেও ধারণ করে। সেজন্যই আপনারা দেখেছেন সরকার গঠন করার পর থেকে বিএনপি চেষ্টা করেছে জুলাইতে যেসব যোদ্ধা আহত হয়েছেন, পর্যায়ক্রমে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে। জুলাইতে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের পরিবারের মানুষগুলোকে, স্বজনদেরকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা ধীরে ধীরে বিএনপি সরকার করে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ দেখছে যে, বিরোধীদল বিরোধিতা করার জন্য বিরোধিতা করে যাচ্ছে। ঠিক আছে, বিরোধিতা আপনারা করেন। কিন্তু আজকে বিরোধিতা করতে গিয়ে আপনারা যদি স্বৈরাচারকে আসার পথ উন্মুক্ত করে দেন তাহলে অবশ্যই সেটি দেশের জন্য কোনো ভালো পরিণাম বয়ে আনবে না। সেটি যেমন জুলাইয়ের শহীদদের সাথে গাদ্দারি করা হবে, একইভাবে ৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গেও গাদ্দারি করা হবে।
পরিবেশ রক্ষায় জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন যে এটিকে তৈরি করতে গিয়ে খুব সম্ভবত অনেকগুলো অনেক পুরনো বড় বড় গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। যারা এই স্থাপত্য শিল্পের সাথে সম্পর্কিত আছেন ভবিষ্যতেও বিভিন্ন স্থাপত্য গড়ে তুলবেন তাদের কাছে আমার আহ্বান থাকবে, আসুন আমরা চেষ্টা করি যতটুকু সম্ভব প্রকৃতিকে নষ্ট না করে বা প্রকৃতিকে আঘাত না করে স্থাপত্য শিল্প গড়ে তুলব।
তিনি বলেন, অবশ্যই এগুলো বানাতে হবে। মানুষের প্রয়োজনে, দেশের প্রয়োজনে আমাদেরকে এগুলো তৈরি করতে হবে। কিন্তু তারপর প্রকৃতিকে যদি আমরা সুরক্ষিত রাখতে পারি, সেটি দিনশেষে আমাদেরই উপকারে আসবে।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পরিচ্ছন্নতায় জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পত্রপত্রিকা খুললেই আমরা এখন দেখছি ডেঙ্গুর বিষয়টি। ডেঙ্গুতে বহু মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে এবং একই সাথে নিশ্চয়ই আপনারা খেয়াল করেছেন গত প্রায় দেড় মাস ধরে সরকারের পক্ষ থেকে আমরা বহু মানুষকে সাথে নিয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালু রেখেছি; যাতে করে এই ডেঙ্গুকে আমরা প্রতিরোধ করতে পারি।
এডিস মশা সরকারি দলও চেনে না বিরোধীদলও চেনে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা সরকার গঠন করার পরে প্রথম প্রথম কয়েকদিন খুব দেখলাম ফজরের নামাজের পরে কারা যেন গিয়ে ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করছে, এখন আর আমরা সেটি দেখতে পাই না।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণে নির্মাণ করা হয়েছে ৯০ ফুট উঁচু ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’। প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভটির গায়ে লেজার কাটিংয়ের মাধ্যমে খোদাই করা হয়েছে ৮৩৪ জন শহীদের নাম। সামনে স্থাপন করা হয়েছে ২০টি প্রতীকী সমাধিফলক।
স্মৃতিস্তম্ভের বাইরের দিকে ১৬৩ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে ৪ ফুট উঁচু এবং ভেতরে ১৭১ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে ৭ ফুট উঁচু রিলিফ ভাস্কর্য রয়েছে।
এতে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণআন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের ধারাবাহিক আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।
রাজধানীর পুরান ও নতুন ঢাকার সংযোগস্থলে অবস্থিত ২৩ একর আয়তনের ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যান আধুনিকায়ন করা হয়েছে। প্রকল্পটির আওতায় উদ্যানটিকে সবুজ, নিরাপদ ও আধুনিক নাগরিক বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।
আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে পুরোনো জলাশয় সংস্কারের পাশাপাশি পাঁচটি নতুন জলাশয় নির্মাণ করা হয়েছে। বিদ্যমান গাছপালা সংরক্ষণ করে নতুন বৃক্ষরোপণ ও সবুজ দ্বীপ তৈরি করা হয়েছে।
উদ্যানটিতে প্রায় ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার হাঁটার পথ, ব্যায়ামাগার, প্যাগোডা, গণশৌচাগার, পার্কিং ও জলাশয়ের ঘাট নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৫০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার বৃষ্টির পানি সংরক্ষণব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দুই স্তরে সাজানো উদ্যানটির সড়ক থেকে দুই মিটার উঁচুতে দ্রুত চলাচলের পথ রয়েছে।