
ড. মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি
প্রতিবেদক, কুমিল্লা
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৭

নিহত কুমিল্লার স্কুলছাত্র অপ্রতিম। ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিম (১৩) হত্যা মামলায় দুই কিশোরসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্কুলছাত্র অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের এক মাসের মাথায় মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) কুমিল্লার আদালতে এ অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়। জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার দ্বিতীয় তদন্ত কর্মকর্তা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব আহমেদ আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯) ও সিয়াম (১৯) নামের দুই তরুণ এবং ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোরকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় আনা এ অভিযোগে শিশু আইনের বিধান অনুযায়ী ওই দুই কিশোরকে আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা দামি আইফোন ছিনিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে পরিকল্পিতভাবে নির্জন স্থানে ডেকে নেয়া হয়েছিল। ফোন ছিনিয়ে নেয়ার সময় অপ্রতিম বাধা দিলে তাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তুহিনকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার বাসার তোশকের নিচ থেকে ছিনতাই হওয়া আইফোনটি উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্য আসামিদের গ্রেফতার করা হয়।
অভিযোগপত্র দাখিলের পর মামলার বাদী ও অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ‘অপ্রতিমকে ঘিরে আমাদের অনেক বড় স্বপ্ন ছিল। ছেলেকে হারিয়ে আমাদের সবকিছু ভেঙে গেছে। পুলিশ দ্রুত অভিযোগপত্র দিয়েছে, এখন আমাদের একটাই দাবি—দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারকাজ শেষ করে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান জানান, জেলা পুলিশ সুপারের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পেশাদারত্বের সঙ্গে তদন্ত সম্পন্ন করে অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়েছে। শারদীয় দুর্গাপূজার সরকারি ছুটির কারণে আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কিছুটা বিরতি ছিল। ছুটি শেষে আদালত অভিযোগপত্রটি আমলে নিয়ে পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করবেন।
উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা নগরীর কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় কোটবাড়ি বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপ্রতিম। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।