
রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৬৪
প্রতিবেদক, কুমিল্লা
প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৫১

হাফেজ মুফতি মো. নাসরুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত
ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়ে হামলার ঘটনায় নিহত হয়েছেন কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার হাফেজ মুফতি মো. নাসরুল্লাহ (৪৫)। তার মৃত্যুর খবরে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পরিবার। বাবাকে হারিয়ে দিশেহারা তিন শিশুসন্তান। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বাড়ির পরিবেশ।
প্রিয়জনকে হারানোর শোকের পাশাপাশি সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
নাসরুল্লাহ নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের সদস্যদের দাবি, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় তিনি নিহত হয়েছেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার সকালে ৪৫ জনের একটি দলের সঙ্গে পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবের পথে যাত্রা করেন নাসরুল্লাহ। সৌদি আরবের বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তার বড় ভাই মুফতি আহসান উল্লাহর সঙ্গে কথা হয়েছিল। রিয়াদের বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটির দুই ঘণ্টার ট্রানজিট ছিল। সেখান থেকে তার জেদ্দায় যাওয়ার কথা ছিল। ট্রানজিট শেষে বোর্ডিং পাস নিয়ে যখন উড়োজাহাজে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই হামলার ঘটনা ঘটে। উড়োজাহাজে ওঠার সুযোগও পাননি তিনি।
নাসরুল্লাহর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে শোকে ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। তার ছোট ভাই হাফেজ মাওলানা মো. আতিকুল্লাহ ভাইকে হারিয়ে গভীর শোকে আচ্ছন্ন।
ভাইয়ের অকালমৃত্যুর পাশাপাশি তার ছোট ছোট সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন তিনি। বিশ্বজুড়ে সংঘাত, হানাহানি ও প্রাণহানি বন্ধের প্রত্যাশা জানিয়েছেন তিনি।
চার ভাইয়ের মধ্যে নাসরুল্লাহ ছিলেন তৃতীয়। তার বাবা-মা, স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে ছিল পরিবার। চার ভাই-ই কোরআনের হাফেজ।
নাসরুল্লাহর বড় ছেলে জামিলের বয়স মাত্র আট বছর। সে জামিয়া আরাবিয়া রবিউল উলুম মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী। যে বয়সে বাবার স্নেহ-ভালোবাসায় বেড়ে ওঠার কথা, সেই বয়সেই বাবাকে হারানোর কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হলো তাকে।
পরিবারের উপার্জন ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় স্বজনেরা। প্রিয় মানুষটির এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তারা। শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রত্যাশা, পৃথিবীজুড়ে সংঘাত বন্ধ হোক, আর কোনো পরিবার যেন এভাবে প্রিয়জন হারাতে না হয়।
উল্লেখ্য, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় দুই বাংলাদেশীসহ অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হন। দুই বাংলাদেশীর মধ্যে একজন মুফতি মো. নাসরুল্লাহ।