
ঝিনাইদহে দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০
শফিকুজ্জামান রুবেল
প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:১১

রাজধানীতে প্রতিদিন উৎপাদিত বর্জ্যের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ ফেলা হচ্ছে অপরিকল্পিতভাবে উন্মুক্ত স্থানে, ড্রেন, খাল কিংবা ভবনের আশপাশে। নগরবাসীর এই অসচেতনতায় ছড়াচ্ছে রোগবালাই, ব্যাহত হচ্ছে পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে নগরবাসীর সম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঢেলে সাজাতে হবে পুরো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। নির্দিষ্ট স্থান সহজলভ্য করার পাশাপাশি প্রয়োগ করতে হবে আইনের।
রাজধানীর ফার্মগেটের হলিক্রস স্কুলের সামনের সড়কের চিত্র এটি, অস্থায়ী দোকানের ফেলা ময়লা সড়কের পাশে এভাবেই পড়ে থাকে। দোকান বন্ধের সময় পরিষ্কার করার প্রয়োজনও মনে করেন না দোকানি।
পাখির চোখে যে ভবনগুলোর ছাদ, বাড়তি অংশ আর বারান্দায় ময়লার ছড়াছড়ি দেখা যাচ্ছে তা ঢাকা মেডিকেলের। রোগীর স্বজনদের ফেলা ময়লায় পরিণত হয়েছে ভাগাড়ে।
এই শহরের মানুষের অসচেতনতার মাত্রা কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে তা পাশাপাশি ভবনগুলোর ফাঁকা স্থানে চোখ রাখলেই ফুটে উঠবে। অধিকাংশ এলাকার দৃশ্য প্রায় একই, ব্যালকনি আর জানালা দিয়ে ময়লা ফেলার প্রবণতাও থামছে না। মানুষের এই বিবেকহীনতার প্রতিকার আর দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চান পথচারীরা।
সিটি করপোরেশনের তথ্যমতে, রাজধানীতে প্রতিদিন উৎপন্ন হওয়া মোট কঠিন বর্জ্যের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ময়লা অপসারণ বা পরিষ্কার করে দুই সিটি। কিন্তু বাকি ২০ থেকে ৩০ ভাগ বর্জ্য অপরিকল্পিতভাবে উন্মুক্ত স্থানে, ড্রেন, খাল কিংবা ভবনের আশপাশে ফেলে নগরবাসী।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে সরকারের পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ার পরিকল্পনার বাস্তবায়ন কীভাবে সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নানা কৌশলে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে, প্রয়োজনে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
স্থপতি ও নগরবিদ মো. ইকবাল হাবিব বলেন, ‘জনগণকে দোষ দেওয়ার আগে তারা ময়লা কোথায় ফেলবেন এবং স্থানীয়ভাবে প্রতিটি ওয়ার্ড পরিষ্কারের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থা তৈরি করতে হবে।’
পরিবেশকর্মী ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল বলেন, ‘এখন আর ক্ষমার দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার সুযোগ নেই। কারণ ঢাকা এখন এমন জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে, শক্ত হাতে হাল না ধরলে শহরকে টিকিয়ে রাখা খুব কঠিন।’
দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক জানান, এখনই সরকার কঠোর হতে চায় না। ক্লিন সিটি বাস্তবায়নে নগরবাসীকে সহযোগিতার আহ্বান প্রশাসকের।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী অনেকটা মানবিক। তিনি চান, হুট করে করলে তো হবে না, তারা তো আমার দেশেরই লোক। ঢাকাকে বাঁচিয়ে রাখতে এখানে যতটুকু খাল-বিল আছে, সেগুলো রক্ষা করতে হবে।’
রাজধানীবাসীর যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলার প্রবণতার পাশাপাশি কলকারখানার বর্জ্যেও দূষিত হচ্ছে ঢাকার আশপাশের খালগুলোর পানি।