
প্রযুক্তির ভিড়ে নিজেদের সংস্কৃতি ভুলে যাওয়া যাবে না: প্রধানমন্ত্রী
মহানগর ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:১৫

সরকারের উদ্যোগে চলতি বছর দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারন্যাশনাল অফিস চালু হতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আন্তর্জাতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, যৌথ গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়ন প্রাপ্তির সুযোগ সম্প্রসারিত হবে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়টির তিনটি আধুনিক ডিজিটাল সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও আলোচনা সভায় এসব কথা জানান বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।
সভায় অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা সহযোগিতা জোরদারে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গৃহীত এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাকে আরও আন্তর্জাতিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা। বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণ, আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়াসহ বৃহত্তর অঞ্চলের একটি আকর্ষণীয় উচ্চশিক্ষা গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হবে।
ইউজিসির এই সদস্য বলেন, বর্তমান সরকার বিদেশি শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির আবেদনপ্রক্রিয়া সহজ করতে ‘স্টাডি বাংলাদেশ’ নামে একটি কেন্দ্রীয় অনলাইন পোর্টাল চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়কে এ পোর্টালের আওতায় আনা হবে। এ লক্ষ্যে ইউজিসির হিট প্রকল্পের অধীনে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনের জন্য এরইমধ্যে আগ্রহপত্র আহ্বান করা হয়েছে। দেশের কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারন্যাশনাল অফিস থাকলেও বর্তমান সরকার চলতি বছরেই দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চালুর উদ্দ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও ইন্টারন্যাশনাল অফিস খোলার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রস্তাবিত পোর্টালের মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারবেন এবং ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। এর ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচিতি বাড়বে এবং বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে। এই ইন্টারন্যাশনাল সহযোগিতা অফিস বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে একাডেমিক কোলাবরেশন, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপের সুযোগ তৈরী, যৌথ ডিগ্রির সুবিধাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।’
এ প্রসঙ্গে ‘ব্রেইন সার্কুলেশন’ ধারণার গুরুত্ব তুলে ধরে অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, বিদেশে অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা ও গবেষণায় কাজে লাগানোর কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এতে দেশের গবেষণার মানোন্নয়ন, নতুন জ্ঞান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।