
সাবেক এমপি ও সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমান মারা গেছেন
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:২৯

বক্তব্য রাখছেন সহকারী নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মাকসুদুল আলম। ছবি: সময় সংবাদ
উপকূলীয় এলাকা ও দ্বীপাঞ্চলে সেনাসদস্য এবং ভারী সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য তিনটি ল্যান্ডিং ক্রাফট ট্যাংক বা এলসিটি নির্মাণ করছে খুলনা শিপইয়ার্ড। এর তৃতীয়টি, এলসিটি-১০৪-এর জলযাত্রা শুরু হয়েছে। যুদ্ধকালীন অভিযানের পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলা, উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমেও ব্যবহার করা যাবে জাহাজটি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে খুলনা শিপইয়ার্ডে এলসিটি-১০৪-এর জলযাত্রার উদ্বোধন করেন সহকারী নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মাকসুদুল আলম। এ সময় সাইরেনের শব্দের সঙ্গে ধীরে ধীরে জাহাজটি নদীতে নামানো হয়। নির্মাণকাজ শেষ করে আগামী এপ্রিলের মধ্যে তিনটি এলসিটিই নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের কথা রয়েছে।
খুলনা শিপইয়ার্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি এলসিটি ৩৫০ জন সেনাসদস্য এবং ছয়টি ট্যাংক, ১২টি সাঁজোয়া যান অথবা ১৮টি সামরিক যান পরিবহনে সক্ষম। সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর যৌথ অভিযানে উপকূলীয় এলাকা এবং দ্বীপাঞ্চলে সদস্য ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছে দেয়ার কাজে ব্যবহার করা হবে এসব জাহাজ।
সামরিক দায়িত্বের পাশাপাশি শান্তিকালেও এলসিটিগুলোর বহুমুখী ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। দুর্যোগকবলিত এলাকায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেয়া, উদ্ধার অভিযান পরিচালনা, প্রশিক্ষণ এবং দুর্গম উপকূলীয় এলাকায় রসদ পরিবহনে ভূমিকা রাখবে জাহাজগুলো।
খুলনা শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. আব্দুল লতিফ জানান, যুদ্ধকালীন ও শান্তিকালীন বিভিন্ন অভিযান পরিচালনার উপযোগী করে জাহাজটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব এলসিটি যুক্ত হলে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও সেনাবাহিনীসহ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য এবং সরঞ্জাম পরিবহনের সক্ষমতা বাড়বে।
বহুমুখী কাজের উপযোগী এলসিটি-১০৪ তৈরি করা হয়েছে কানাডীয় নকশায়। নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষায়িত এএইচ-৩৬ ইস্পাত। জাহাজটিতে যুক্ত করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাটারপিলার ইঞ্জিন। পাশাপাশি রয়েছে পশ্চিমা প্রতিষ্ঠানের জেনারেটর ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম।
দেশের শিপইয়ার্ডে এ ধরনের জাহাজ নির্মাণের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে আরও বড় ও অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ তৈরির পথ এগিয়ে নেবে বলে প্রত্যাশা জানিয়েছেন সহকারী নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মাকসুদুল আলম।
তিনি বলেন, ‘ইনশা আল্লাহ, এই পথ ধরে ভবিষ্যতে আরও অত্যাধুনিক এবং বড় যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে খুলনা শিপইয়ার্ড এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ অতি শিগগিরই যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে বিশ্বে একটি মাইলফলক অর্জন করবে বলে আমি আশা রাখি।’