
জ্বালানি ও সার খাতে আলজেরিয়াকে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান
প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জ
প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৪৮

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল। ছবি: সংগৃহীত
সুনামগঞ্জে গেল সাত মাসে ৮৩ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে ভৌগোলিক অবস্থান ও পরিবেশগত কারণে জেলায় স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গুর প্রকোপ নেই এবং এখন পর্যন্ত জেলায় কোনো ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়নি।
স্বাস্থ্য বিভাগ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আক্রান্তদের প্রায় সবাই ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ও চট্টগ্রামের মতো ডেঙ্গুপ্রবণ এলাকায় কাজকর্ম করা শ্রমজীবী মানুষ। এপ্রিলের শেষার্ধ থেকে চলতি অক্টোবর পর্যন্ত সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৫৯ জন এবং ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে সুনামগঞ্জ সদর, দোয়ারাবাজার, বিশ্বম্ভরপুর, শান্তিগঞ্জ ও ধর্মপাশা উপজেলার বাসিন্দারা রয়েছেন। জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে ধর্মপাশায় রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি।
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের ষষ্ঠ তলার ডেঙ্গু আইসোলেশন ওয়ার্ডের ছয়টি শয্যার মধ্যে বর্তমানে মাত্র একজন রোগী ভর্তি রয়েছেন। বাকিরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। রোগীরা জানান, বড় শহরগুলোতে কাজের প্রয়োজনে অবস্থানকালে শুরুতে সাধারণ জ্বরে আক্রান্ত হয়ে তারা গ্রামে ফেরেন। পরে জ্বর না কমায় হাসপাতালে পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ মো. আফজাল হোসেন বলেন, ‘আক্রান্তদের সবাই ডেঙ্গুপ্রবণ এলাকায় কাজ করতেন। সাধারণ জ্বর নিয়ে বাড়ি ফেরার পর পরীক্ষায় তাদের ডেঙ্গু পজিটিভ আসে। ভ্রমণের সময় সতর্কতা অবলম্বন এবং দূরপাল্লার বাসে অ্যারোসল স্প্রে করলে এর প্রকোপ আরও কমে আসবে। এছাড়া দুর্গাপূজার ছুটিতে বাড়ি ফেরা মানুষের অসচেতনতার কারণে রোগীর সংখ্যা কিছুটা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
আইসোলেশন ওয়ার্ডের নার্স মিনা ফারিহা বলেন, ডেঙ্গুপ্রবণ এলাকা থেকে আসা কারও জ্বর দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে এসে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো উচিত। এতে সময়মতো চিকিৎসা পাওয়ার পাশাপাশি রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও কমে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. যশোবন্ত ভট্টাচার্য জানান, দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় সুনামগঞ্জে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অনেক কম। মূলত যাদের ডেঙ্গুপ্রবণ অঞ্চলে ভ্রমণের ইতিহাস রয়েছে, তারাই আক্রান্ত হচ্ছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ছয়জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।