
বিলে জেলের জালে ১৩ ফুটের অজগর আটকা
প্রতিবেদক, যশোর
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২২:৪৮

দণ্ডপ্রাপ্ত একই পরিবারের ৪ আসামি। ছবি: সময় সংবাদ
যশোরের মনিরামপুরে মাদক ব্যবসায়ী মুকুল হোসেন হত্যা মামলায় একই পরিবারের চারজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার আরও চার আসামিকে খালাস দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) যশোরের সিনিয়র দায়রা জজ মাহমুদা খাতুন এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট নূর আলম পান্নু।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মনিরামপুর উপজেলার শিরালি মদনপুর গ্রামের মুন্তাজ আলী, তার ছেলে টিপু এবং মুন্তাজের দুই ভাতিজা মৃত ইন্তাজ আলীর ছেলে দিপু ও রাশেদ আলী। অর্থদণ্ডের টাকা অনাদায়ে তাদের আরও ছয় মাস করে কারাভোগ করতে হবে। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন মাজেদা খাতুন, সাদেক আলী, জাফর ও রায়হান ওরফে কাসেদ। সাজাপ্রাপ্ত চারজনই কারাগারে আটক রয়েছেন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শিরালি মদনপুর গ্রামের মুকুল হোসেন মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে মনিরামপুর থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে আটটি মামলা ছিল। এছাড়া বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গেও তিনি জড়িত ছিলেন। এসব নিয়ে একই গ্রামের মুন্তাজ আলীর পরিবারের সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধে জড়িয়ে পড়েন মুকুল। এর মধ্যে একটি সাইকেল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের বিরোধ চরমে পৌঁছায়।
২০২১ সালের ২৯ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে কয়েকজন অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত শিরালি মদনপুর গ্রামের কবরস্থানের কাছে মুকুলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরদিন নিহতের বাবা আমিন মোড়ল বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মনিরামপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন মুন্তাজ আলী, তার ছেলে টিপু এবং মুন্তাজের চার ভাতিজা দিপু হোসেন, রায়হান হোসেন, সাদেক আলী ও রাশেদ হোসেন।
তদন্ত শেষে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আটজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। জড়িত থাকার প্রমাণ না পাওয়ায় অভিযোগপত্রে দুজনকে অব্যাহতির আবেদন জানানো হয়। দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন।