
রামপাল থানার ওসি রাজিব মারা গেছেন
প্রতিবেদক, ফরিদপুর
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৮

ফরিদপুর আদালত চত্বর। ছবি: সময় সংবাদ
ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামী জিল্লুর রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ আদেশ দেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত জিল্লুর রহমান পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ছালেহা বেগমের (২৪) সঙ্গে আলফাডাঙ্গা উপজেলার জিল্লুর রহমানের (৩৫) পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে ছালেহা বেগমের ওপর অত্যাচার শুরু করেন জিল্লুর রহমান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে মাঝেমধ্যেই কথাকাটাকাটি হতো। বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে না দেয়ায় ২০১৯ সালের ১৮ এপ্রিল ছালেহা বেগমকে পিটিয়ে হত্যা করেন জিল্লুর। পরে মুখে গুল (তামাকজাতীয় দ্রব্য) ঢেলে মরদেহ বাড়িতে রেখেই পালিয়ে যান তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় পরদিন নিহত ছালেহা বেগমের ভগ্নিপতি ইমরান মোল্যা বাদী হয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ২ নভেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করেন আদালতের বিচারক।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন জানান, যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামী জিল্লুর রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
তিনি আরও জানান, রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত জিল্লুর রহমান পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এই রায়ের মধ্য দিয়ে সমাজে এ ধরনের অপরাধ কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।