
তাজমীন হত্যা: সাড়ে ৪ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর রাজুকে পাঠানো হয় আদালতে
প্রতিবেদক, চুয়েট
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২:৫৮

চুয়েটে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে ক্যাম্পাসে আসেন রাউজানের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংছিং মারমা, ছবি: সময় সংবাদ
পদত্যাগ না করা পর্যন্ত চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে অবরুদ্ধ রাখার কথা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে প্রশাসনিক ভবন-২-এর সামনে সংবাদ সম্মেলন করে এ অবস্থান জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে পাঠ করা এক বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, নিজের পদ টিকিয়ে রাখতে নবনিযুক্ত উপাচার্য মদুনাঘাট ও বহদ্দারহাট টার্মিনালে শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাসে হামলা করিয়েছেন। এ ছাড়া বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে তিনি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন বলেও দাবি তাদের। এসব ঘটনার পর অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে উপাচার্য হিসাবে আর মেনে নিতে চান না বলে জানান শিক্ষার্থীরা।
তাদের ভাষ্য, সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্য ও তার সহযোগীদের ভবন ছেড়ে যাওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা বেরিয়ে না যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনে তালা লাগিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
শিক্ষার্থীরা আরও জানান, উপাচার্য নিজ হাতে পদত্যাগপত্র লিখে দিলে কিংবা সাংবাদিকদের সামনে প্রকাশ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দিলে ভবনের তালা খুলে দেয়া হবে। এরপর তাকে ও তার সহযোগীদের নিরাপদে ক্যাম্পাস ত্যাগের সুযোগ দেয়া হবে। অন্যথায় অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত তালা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে অনড় থাকবেন তারা।
এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সংযোগ চালুর অনুরোধ নিয়ে রাতে ক্যাম্পাসে যান রাউজানের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংছিং মারমা। রাত ১০টার দিকে তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অংছিং মারমা বলেন, ‘আমরা আপনাদের দাবি-দাওয়ার বিপক্ষে নই। আমাকে জেলা প্রশাসক বিষয়টি দেখতে বলেছেন। তিনি বিষয়টি জানেন। উপাচার্য মানবিক সংকটে আছেন শুনে আমি এসেছি। আমি শুনে এসেছি তিনি খাবার, পানি ও বিদ্যুৎ থেকে বিচ্ছিন্ন। কিন্তু এখানে এসে জেনেছি, আপনারা খাবার ও পানির ব্যবস্থা রেখেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে অনুরোধ, মানবিক সংকট থেকে উত্তরণের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা বিবেচনা করবেন। শিক্ষার্থীদের কোনো কার্যক্রমের বিরোধিতা করতে আসিনি।’
এর জবাবে শিক্ষার্থীদের পক্ষে যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আহনাফ শাহরিয়ার অর্ণব বলেন, ‘দীর্ঘ ২১ দিনের আন্দোলনে কোনোদিন চুয়েটের বাসে হামলা হয়নি। অথচ তিনি আসার পরপরই বাসে হামলা হয়েছে। এ ঘটনার পর আমরা কেউ তাকে উপাচার্য হিসাবে চাই না।’
তিনি আরও বলেন ‘তাকে উপাচার্য ভবন ত্যাগের আলটিমেটাম দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি নিজ উদ্যোগে নিজেকে অবরুদ্ধ করেছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি পদত্যাগ না করবেন, ততক্ষণ উপাচার্য ভবনের তালা খুলবে না। একজন উপাচার্য যখন তার সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান, তখন আমরা আর কোনো মানবিকতা প্রদর্শনের মতো অবস্থায় নেই।’
এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘সন্ত্রাস, শিক্ষা একসঙ্গে চলে না’ এবং ‘যেই ভিসি ছাত্র মারে, সেই ভিসি আমার না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
পরে উপাচার্য ভবনের ভেতরে থাকা অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চান সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংছিং মারমা। তবে শিক্ষার্থীরা আলোচনাটি প্রকাশ্যে করার শর্ত দেন। এতে সম্মত হননি নবনিযুক্ত উপাচার্য। ফলে তার সঙ্গে দেখা না করেই ক্যাম্পাস থেকে ফিরে যান এসি ল্যান্ড।
উল্লেখ্য, নিয়োগ পাওয়ার প্রায় তিন সপ্তাহ পর সোমবার সকালে প্রশাসনিক ভবন-২-এর তালা ভেঙে নিজের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। এরপর থেকেই ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।