
সুনামগঞ্জে মাদক নিয়ে সংবাদ করায় সাংবাদিককে কুপিয়ে জখম
প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশ: রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২:১৩

সৌদি আরবের মক্কায় গোপন প্রক্রিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশি যুবক নজরুল ইসলামের (২২) মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার বিরামপুর গ্রামে নেমে এসেছে চরম শোকের ছায়া। স্বজনদের না জানিয়ে ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে অতি গোপনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন নিহতের স্বজনেরা। এ ঘটনায় পরিবার ও এলাকাবাসী উভয় দেশের সরকারের কাছে ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং রাষ্ট্রীয় খরচে নজরুলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পরিবারের অসচ্ছলতা দূর করে একটু সুখের মুখ দেখতে ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর সৌদি আরবে পাড়ি জমান বিরামপুর গ্রামের দরিদ্র কৃষক আব্দুল বাছিরের বড় ছেলে নজরুল ইসলাম। সেখানে তিনি একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনিই ছিলেন পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।
সৌদি আরবে পৌঁছানোর ৬ মাসের মাথায় মক্কা নগরীর একটি মসজিদে সুইটি আক্তার নামে এক যুবতীর সঙ্গে অনৈতিক কাজের অভিযোগে দেশটির পুলিশ নজরুল ও সুইটিকে গ্রেফতার করে। দীর্ঘ ৩ বছর ৩ মাস কারাবন্দী থাকার পর গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) তাদের দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সৌদি সরকার।
নিহতের স্বজনেরা অভিযোগ করেন, কারাবন্দী থাকা অবস্থায় প্রতি রোববার পরিবারের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলতেন নজরুল। তবে গত বুধবার কোনো পূর্বঘোষণা বা স্বজনদের অবগত না করেই তার ওপর মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়। গণমাধ্যমের সংবাদ দেখে বিরামপুরে থাকা স্বজনেরা নজরুলের মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারেন।
নজরুলের মা রহিমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, 'আমাদের না জানিয়ে এবং আমার ছেলেকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ না দিয়েই গোপনীয়তার সঙ্গে তাকে মেরে ফেলা হয়েছে।'
ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে বাকরুদ্ধ ও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বাবা আব্দুল বাছির। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, 'আমার ছেলে কী অপরাধ করেছে একমাত্র আল্লাহই জানেন। এখন আমি শুধু আমার সন্তানের মরদেহ দেশের মাটিতে ফিরে পেতে চাই।'
ভাইপোর মৃত্যুর খবর শুনে বুধবার রাতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান নজরুলের আপন ফুফু আবেদা বেগম।
নজরুলের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তাদের বাড়িতে ভিড় করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গ্রামবাসী জানান, সৌদি আরব সরকার বিভিন্ন নীতিতে শিথিলতা আনলেও বিচার প্রক্রিয়ায় আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে এমন কট্টর সিদ্ধান্ত গ্রহণ হতাশাজনক। তারা দরিদ্র এই কৃষক পরিবারের পাশে দাঁড়াতে দুই দেশের সরকারের প্রতি আকুল আবেদন জানান।