
রায়পুরায় মাদকাসক্ত ছেলেকে হাত-পা বেঁধে হত্যার অভিযোগ বাবার বিরুদ্ধে
আরেফিন বাঁধন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৪৫

জলবায়ু পরিবর্তনকে আর কেবল পরিবেশগত সংকট হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, এটি এখন সরাসরি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি ও প্রবৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে নগণ্য অবদান সত্ত্বেও বাংলাদেশ জলবায়ু অভিঘাতের চরম মাশুল গুনছে, যা শিল্প উৎপাদনশীলতা, জনস্বাস্থ্য ও কৃষি খাতকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে মনে করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
আসন্ন জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনকে (কপ-৩১) সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর একটি কনফারেন্স হলে আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় গবেষণা সংস্থাটির প্রতিনিধিরা এসব তথ্য তুলে ধরেন। আলোচনায় সবুজ জ্বালানির বিকাশ, আন্তর্জাতিক অভিযোজন তহবিল এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক কৌশল নিয়ে বিভিন্ন বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধি মতামত ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর শুধু পরিবেশগত ইস্যুতে সীমাবদ্ধ নেই, এটি দেশের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। এর বিরূপ প্রভাবে কর্মীদের কর্মদক্ষতা ও বিভিন্ন খাতের উৎপাদনশীলতা কমে যাচ্ছে। ফলে এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে বৈশ্বিক বাজারে টিকে থাকতে হলে সবুজ প্রযুক্তিতে কৌশলগত বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা জরুরি।’
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০২৩ থেকে ২০৫০ সাল পর্যন্ত ২৭ বছরে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা পেতে বাংলাদেশের অভিযোজন খাতে প্রয়োজন অন্তত ২৩ হাজার কোটি (২৩০ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার। অর্থাৎ প্রতিবছর গড়ে সাড়ে ৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রয়োজন হলেও বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিল থেকে প্রাপ্তি তার তুলনায় অত্যন্ত কম। অথচ বিশ্বের মোট কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান মাত্র ০.০৪ শতাংশ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা সবুজ জ্বালানি প্রসারে পিছিয়ে থাকার পেছনে বিগত সরকারগুলোর ভুল নীতি ও রূপরেখাকে দায়ী করেন। হ্যামস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুর রহমানসহ খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা জানান, সঠিক নীতির অভাবে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে টেকসই ও সবুজ রূপান্তর করা সম্ভব হয়নি। তাই বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতকে সামষ্টিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ বিবেচনা করে অবিলম্বে কার্যকর সংস্কারের দাবি জানান তারা।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, সীমিত কার্বন নিঃসরণ করেও বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের বড় ঝুঁকি বহন করছে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে প্রতিবছর অন্তত ২০ লাখ নতুন কর্মসংস্থানের চাহিদা মেটাতে বহুমাত্রিক ও টেকসই বিনিয়োগের বিকল্প নেই।
আলোচনায় টিসিবির পণ্য বিতরণ ব্যবস্থার নানামুখী সংস্কার নিয়েও কথা হয়। সিপিডির পক্ষ থেকে টিসিবির সুফলাভোগীদের মনিটরিং নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বলা হয়, রাজনৈতিক পরিচয়হীন অথচ প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠী অন্যায্য সুযোগ নিচ্ছে। এর জবাবে টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ জানান, রাজনৈতিক পরিচয় নয়, প্রান্তিক জনগণের আর্থিক অবস্থা যাচাই করেই টিসিবির সুবিধাভোগী বাছাই ও কার্ড প্রদান করা হচ্ছে।