
পরিদর্শক হলেন পুলিশের ১৪৯ কর্মকর্তা
প্রতিবেদক, ফরিদপুর
প্রকাশ: রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:৩

ফরিদপুরের নগরকান্দায় তাস খেলায় সুদে টাকা দেয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে একই পরিবারের ৫ জনকে কুপিয়ে জখম করার পর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ফরিদপুরের নগরকান্দায় তাস খেলায় সুদে টাকা দেয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে একই পরিবারের ৫ জনকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।
রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ জানান, টাকা পাওনাকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনাটি ঘটেছে। তবে কিসের টাকা সেটি সম্পর্কে অবগত নই। এ ঘটনায় অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
আহতদের উদ্ধার করে বিকালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় পাঁচটি বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগি পরিবারটি। তবে অপরপক্ষের ৪ জন আহত হয়ে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলেও জানা গেছে।
জানা যায়, নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল গ্রামের হানিফ রানার সমর্থক একই গ্রামের আয়ুব আলী মিয়া ও ফজলুল হকের সমর্থক আলমগীর মিয়ার মধ্যে তাস খেলাকে কেন্দ্র করে সুদের পাওনা টাকা নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। দুপুরে টাকা পাওনাদার আয়ুবের নেতৃত্বে আলমগীরকে ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় ফজলুল হকের ভাই ইয়ার আলী ও সুজন বাধা দিলে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এরপর হানিফ মিয়ার নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র রামদা, ঢাল, সরকি নিয়ে ইয়ার আলীর পরিবারটির উপর হামলা করা হয়। এ সময় পরিবারের ৫ সদস্যকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়। এ সময় পাঁচটি বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে গুরুতর আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে রয়েছে, মধ্য কাইচাইল গ্রামের সৈয়দ আলী মাতুব্বরের ছেলে ইয়ার আলী (৪০), সুজন মিয়া (৩৫) ও মেয়ে শিউলী বেগম (৩০) এবং সুজনের স্ত্রী রত্না বেগম (২৫), ইয়ার আলীর ছেলে ইয়ামিন (১৭)। এছাড়া স্থানীয় বাজারের চা দোকানি মনু মিয়াকে (৫৫) পিটিয়ে হাত ভেঙে ফেলা হয়েছে। তিনি ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন।
রোববার রাতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, একই পরিবারের ৫ সদস্য হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি অ্যান্ড নিউরোলজি বিভাগের পুরুষ ও নারী বিভাগে চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে ইয়ার আলীর শরীরে ধারালো অস্ত্র রামদার ৬টি কোপ রয়েছে এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুজন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, আয়ুব আলী মিয়া এলাকায় তাস খেলোয়ারদের সুদের ওপর টাকা দিয়ে থাকেন। এভাবে অনেক পরিবারকে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। আলমগীরকে এভাবে টাকা দিয়ে ফাঁদে ফেলানো হয়েছে, প্রতিদিন এক হাজার করে টাকা দেওয়ায় সে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, এক পর্যায়ে মোট টাকা দিতে ব্যর্থ হলে সকালে আলমগীরকে গামছা দিয়ে বেঁধে নিয়ে যেতে দেখা যায়। তখন আমরা পাশের মনু মিয়ার চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিলাম। আলমগীরকে ধরে নেওয়া দেখে আমরা বাঁধা দিলে ওই সময় তারা আমাদের মারধর করেন। চায়ের দোকানির হাত পর্যন্ত ভেঙে ফেলা হয়। তখন আমরা বাড়িতে চলে গেলে আধাঘণ্টা পর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের বাড়িতে এসে অতর্কিতভাবে হামলা চালানো হয়। প্রথমে আমার ভাইকে কোপানো হয়, তখন আমি ঠেকাতে গেলে আমাকেও কোপানো হয়।
এ ঘটনায় বিচারের দাবি জানিয়ে ফজলুল হক দাবি করেন, হানিফ রানা সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক। তার নামে অন্তত ১২টি মামলা রয়েছে। এই হানিফ রানাসহ সকল হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচার দেখতে চাই।
এদিকে অপরপক্ষের আয়ুব আলী মিয়াসহ চারজন নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানান হানিফ রানা। তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি ছিলেন না এবং আগে গ্রাম্য দল পরিচালনা করলেও বর্তমানে তার দল পরিচালনা করেন মুন্নু মিয়া।
তিনি আরও বলেন, তাস বা জুয়ার টাকা নিয়ে ঝামেলা হয়নি। মূলত আয়ুব ভারতে থাকতেন, সেখান থেকে আলমগীরের কাছে ৮৫ হাজার টাকা পাঠিয়েছিল। সেই টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটে।