
সহযোগীদের গুলিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাহেব আলী নিহত
নূর মোহাম্মদ
প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৩৮

সোমবার (১২ অক্টোবর) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে পাগলা মসজিদের দানবাক্সে পাওয়া স্বর্ণালংকার, রুপা ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রা পৃথকভাবে শ্রেণিবিন্যাস করা হচ্ছে। ছবি: সময় সংবাদ
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স থেকে পাওয়া গেছে ১২ কেজি ১৭৪ গ্রাম স্বর্ণ ও ১২ কেজি ৬৯০ গ্রাম রুপা।
দিনভর গণনা ও পরিমাপের পর সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এ তথ্য জানানো হয়। গত ৬ বছরে নগদ টাকা ছাড়া এসব স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া যায়। তবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত গনণা শেষ না হওয়ায় বিদেশি মুদ্রার পরিমাণ জানা যায়নি।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে সকাল পৌনে ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে স্বর্ণালঙ্কার ও বিদেশি মুদ্রা পরিমাপের কাজ শুরু হয়।
জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ কার্যক্রমে দানবাক্সে পাওয়া স্বর্ণালংকার, রুপা ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রা পৃথকভাবে শ্রেণিবিন্যাস করা হচ্ছে। পরে এসব সামগ্রীর ওজন নির্ধারণ ও গণনার মাধ্যমে সঠিক পরিমাণ হিসাব করা হয়।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সারা দিন ধরেই কার্যক্রম চলে।
এ সময় শহরের ১০ জন স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও ১৫ জন ব্যাংক কর্মকর্তার সহযোগিতায় বিভিন্ন স্বর্ণালঙ্কার আলাদা করে ওজন দেয়া হয়। একইভাবে বিভিন্ন দেশের মুদ্রা আলাদা করে হিসেব করা হয়।
জানা যায়, গত ২৭ জুন দীর্ঘ ছয় মাস পর পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খোলা হয়। সেদিন দানবাক্সগুলো থেকে রেকর্ড ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ গণনার জন্য প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ৫৯০ সদস্যের একটি দল অংশ নেয়। ধাপে ধাপে নগদ অর্থ গণনার পাশাপাশি দানবাক্সে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালঙ্কার, রুপা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীও পৃথক করা হয়।
নগদ অর্থ গণনার কাজ শেষ হলেও স্বর্ণালঙ্কার, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রার সঠিক পরিমাণ নির্ধারণের জন্য পৃথকভাবে শ্রেণিবিন্যাস, ওজন পরিমাপ ও গণনার প্রয়োজন হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এসব মূল্যবান সামগ্রীর হিসাব নির্ধারণের কাজ শুরু হয়েছে।
গণনা শেষে স্বর্ণালঙ্কার ও বিদেশি মুদ্রা কিশোরগঞ্জ কালেক্টরেট এর ট্রেজারিতে জমা রাখা হয়। পরে স্বর্ণালঙ্কার ও রুপা নিলামে বিক্রি করা হবে বলে জানিয়েছে মসজিদ কর্তৃপক্ষ।
২০২০ সালের ১১ মার্চ সর্বশেষ দান বাক্সে পাওয়া স্বণালঙ্কার ও বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব করা হয়েছিল।
তখন ৪১৫ ভরি এক আনা স্বণালঙ্কার ও ১৮৪ ভরি রুপা বিক্রি করে এক কোটি ১৫ লাখ ৪৯০০ টাকা এবং বৈদেশিক মুদ্রা থেকে পাওয়া গিয়েছিল এক কোটি ২৭ লাখ ৬৫১ টাকা।
এর পর থেকে ১৮ বার সিন্দুক খুলে পাওয়া মাঝারি আকারের ৬টি প্লাস্টিকের কন্টেইনারভর্তি স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কার এবং ছয়টি বিদেশি মুদ্রার খাম সিলগালা করে ট্রেজারিতে রাখা হয়। আজ সকালে এগুলো খোলা হয়।
সবশেষ গত ২৭ জুন মসজিদের ১৩টি দান সিন্দুক খোলা হয়। বর্তমানে পাগলা মসজিদের নামে খোলা ব্যাংক হিসাবে জমা আছে ১৩১ কোটি ৮৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮১০ টাকা।