
দুই বছরেও উদ্ধার হয়নি লুট হওয়া ২১ আগ্নেয়াস্ত্র, ঝুঁকিতে জননিরাপত্তা
প্রতিবেদক, কাপ্তাই
প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৩

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মোহাম্মদ মাহিবুর কামাল প্রকাশ মোহিবুল্লাহ। ছবি ভিডিও থেকে নেয়া
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে তাকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ১১ মার্চ সন্ধ্যায় রাঙ্গুনিয়ার দোবাসী বাজারের ভাড়া বাসা থেকে বের হয়ে কাপ্তাই নতুন বাজারে যান হাসিনা বেগম। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজের পরদিন কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনা-কাপ্তাই ইউনিয়নে অবস্থিত বিএফআইডিসি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে একটি পরিত্যক্ত টয়লেট থেকে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারকৃত মরদেহে বেশ কয়েকটি আঘাতের চিহ্ন ও শরীরে আগুনে পোড়ানোর আলামত পাওয়া যায়।
এ ঘটনার পরদিন (১৩ মার্চ ২০২২) নিহতের মা আমেনা বেগম বাদী হয়ে কাপ্তাই থানায় দণ্ডবিধির ৩০২ ও ২০১ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রথম দফার তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ২৯ অক্টোবর আদালতে প্রথম অভিযোগপত্র পেশ করা হয়। তবে তদন্ত নিয়ে বাদীর আপত্তির মুখে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দায়িত্ব দেন। পিবিআই দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৯ জানুয়ারি একই আসামির বিরুদ্ধে পুনরায় অভিযোগপত্র দাখিল করে।
মামলা চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ মোট ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও তথ্যপ্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করে। আসামি পক্ষ থেকে কোনো সাফাই সাক্ষী দেওয়া হয়নি এবং আসামি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন। তবে সার্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আলামত পর্যালোচনা করে আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় দেন। রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে সাজা কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনাকারী রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সিনিয়র অ্যাডভোকেট প্রতিম রায় পাম্পু রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই রায়ের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা গেল যে, অপরাধ করে কেউ পার পেতে পারে না। দেরিতে হলেও অপরাধীকে আইনের আওতায় আসতেই হবে।’