
নবীনগরে বালুখেকোদের তাণ্ডবে বিলীন কৃষিজমি, স্থানীয়দের প্রতিবাদ
প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৪৯

ওয়াকিল নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। তাকে দল থেকে করা হয় বহিষ্কার। ছবি: সময় সংবাদ
চট্টগ্রামে পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগা একটি মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। চাঁদাবাজির একটি মামলায় আত্মসমর্পণ করেন তিনি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিদুল ইসলামের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তিনি। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সিএমপির উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) হাসান ইকবাল চৌধুরী জানান, চাঁদাবাজির একটি মামলায় ওয়াকিল আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেছিলেন। আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
ওয়াকিল নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গত ৮ জুন তাকে বহিষ্কার করা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি ও দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২৩টি মামলা রয়েছে।
পুলিশের দাবি, ওয়াকিল একাধিক কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করেন এবং দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
একাধিক মামলার আসামি হওয়ায় ওয়াকিলকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল পুলিশ। সবশেষ গত ৬ অক্টোবর মহানগরের টাইগারপাস এলাকায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান কার্যালয় নগর ভবনে তার অবস্থানের খবর পেয়ে অভিযান চালান পুলিশ সদস্যরা। তবে সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি।
পরদিন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ওয়াকিল নগর ভবনে ছিলেন না; তার দুই ভাই মেয়রের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন।
গত ২৯ আগস্ট পাহাড়তলী কলেজের অস্থায়ী শিক্ষক মিজানুর রহমানকে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগে খুলশী থানায় একটি মামলা হয়। ওই মামলায়ও ওয়াকিলকে আসামি করা হয়।
মামলা নেয়ায় ওসি আবদুর রহিমকে ‘আওয়ামী লীগ’ আখ্যা দিয়ে তাকে পেটানোর হুমকি দেয়ার অভিযোগে ওই পুলিশ কর্মকর্তা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এরপর ৪ সেপ্টেম্বর সকালে ওয়াকিলকে গ্রেফতার করতে গেলে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এতে ওসি আবদুর রহিমসহ ছয় পুলিশ সদস্য আহত হন এবং পুলিশের একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এ ঘটনায় ওয়াকিলকে প্রধান আসামি করে ১৪ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করে মামলা করে পুলিশ।
পুলিশের ওই অভিযানের পর ওসি আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন ওয়াকিলের বাবা। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ৪ সেপ্টেম্বর ভোরে পুলিশ তাদের বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর, লুটপাট ও পরিবারের সদস্যদের মারধর করে। এতে প্রায় ১৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগটি বর্তমানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করছে।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর নগরের ওয়্যারলেস কলোনিতে কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষ—সেভেন স্টার ও ফাইভ স্টারের বিরোধে হৃদয় নামের এক তরুণ নিহত হন। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলাতেও ওয়াকিলকে আসামি করা হয়েছে।
সর্বশেষ গত ৬ অক্টোবর প্লট দখল, চাঁদাবাজি ও অপহরণের অভিযোগে ওয়াকিলসহ ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে খুলশী থানায় আরেকটি মামলা হয়। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
‘চট্টগ্রাম খবর’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক শেখ মুহাম্মদ আরিফ মামলাটি করেন। তিনি যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত আফলাতুনের ছেলে।