
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে ২ ছেলের মৃত্যু
প্রতিবেদক, রাঙ্গামাটি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৫

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গোলাগুলি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন রাঙামাটির পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব। ছবি: সময় সংবাদ
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দুই ঘণ্টা গুলি বিনিময়ের পর সাজেকের উজোবাজার এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছেন রাঙামাটির পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে রাঙামাটি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।
পুলিশ সুপার বলেন, ‘সাজেকের পর্যটকেরা উজোবাজার এলাকায় পৌঁছালে সড়ক অবরোধকারীরা বাধা দেয়। তাদের সড়ক ছেড়ে দিতে বললে প্রথমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে তারা। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আট সদস্য আহত হন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর গুলি চালায় সন্ত্রাসীরা।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সশস্ত্র ব্যক্তিদের মধ্যে থেমে থেমে প্রায় দুই ঘণ্টা গোলাগুলি চলে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ওই এলাকায় অভিযান চলছে।’
এ ঘটনার সঙ্গে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) জড়িত থাকার গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
পুলিশ সুপার বলেন, ‘সাজেক থেকে ফেরা পর্যটকেরা নিরাপদে খাগড়াছড়ি পৌঁছেছেন। পুরো ঘটনা তদন্ত শেষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক দুই রাজনৈতিক সংগঠনের বিরোধের জেরে আজ থেকে রাঙামাটির সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে। সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন এ অবরোধের ডাক দিয়েছে। এর ফলে সাজেকে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকদের যাতায়াতে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
সড়ক অবরোধের খবরে সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করে প্রশাসন। এরপর আজ সকাল ৮টার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হন প্রায় তিন হাজার পর্যটক। তবে পর্যটকবাহী গাড়িগুলো বেলা ১১টার দিকে উজোবাজার এলাকায় পৌঁছালে অবরোধকারীদের বাধার মুখে পড়ে।
পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যারিকেড সরিয়ে পর্যটকদের খাগড়াছড়ির দিকে নিয়ে যাওয়ার সময় সশস্ত্র ব্যক্তিদের সঙ্গে গোলাগুলি হয়। পরে সাজেক থেকে ফেরা পর্যটকেরা নিরাপদে খাগড়াছড়ি পৌঁছান।