
মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:১

মালয়েশিয়ার বিভিন্ন শিল্পখাতে শ্রমিকের তীব্র ঘাটতি মেটাতে দেশটিতে অবস্থানরত নিবন্ধিত শরণার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে দেশটির সরকার।
এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল জানান, বর্তমানে দেশে থাকা প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার নিবন্ধিত শরণার্থীর তথ্য পর্যালোচনা চলছে। তাদের মধ্য থেকে কর্মক্ষম ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে নোংরা, বিপজ্জনক ও কঠিন (৩ডি) কাজের ক্ষেত্রগুলোতে কাজে লাগানোই এর উদ্দেশ্য।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) মাধ্যমে নিবন্ধিত কর্মক্ষম শরণার্থীদের একটি তথ্যভাণ্ডার তৈরি করে শ্রমশক্তি হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তবে সাইফুদ্দীন জোর দিয়ে বলেছেন যে, প্রস্তাবটি এখনও বিবেচনাধীন রয়েছে এবং তা কার্যকর করা হয়নি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উদাহরণ দিয়ে জানান, পাসির গুডাংয়ের একটি পাম অয়েল বাগানে ১০০ জন শ্রমিকের প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ বা অন্য কোনো দেশ থেকে বেশি খরচে নতুন কর্মী না এনে দেশের ভেতরে থাকা নিবন্ধিত শরণার্থীদের দিয়ে সেই চাহিদা পূরণ সম্ভব।
তিনি বলেন, এতে একদিকে বিদেশের ওপর শ্রম-নির্ভরশীলতা কমবে, অন্যদিকে নিয়োগকর্তাদের কর্মী আনার মোটা অঙ্কের ব্যয়ও অনেকটাই বেঁচে যাবে।
দেশের ৩ডি খাতগুলোতে স্থানীয় মালয়েশীয়দের আগ্রহ আশঙ্কাজনকভাবে কম হওয়ায় বিকল্প পথ খুঁজছে সরকার। গত আগস্টে 'মাইফিউচারজবস' ওয়েবসাইটে হাজার হাজার শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও মাত্র ৩৫২ জন মালয়েশীয় আবেদন করেন।
মালয়েশিয়ার অর্থনীতির মূল পাঁচটি খাত- উৎপাদন, বাগান, কৃষি, নির্মাণ এবং সেবা খাতে উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে সার্বিক শ্রমিকের জোগান অত্যন্ত জরুরি। সরকার ঘোষিত ত্রয়োদশ মালয়েশিয়া পরিকল্পনার আওতায় মোট ১.৭ কোটি শ্রমশক্তির সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ (প্রায় ১৭ লাখ) বিদেশি কর্মী নিয়োগের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই আইনি সীমার মধ্যে থেকে স্থানীয় অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে সরকার অভ্যন্তরীণ শরণার্থীদের দক্ষ ও নিবন্ধিত শ্রমশক্তিতে রূপান্তরের উদ্যোগ নিচ্ছে। দেশীয় নাগরিকদের প্রথম অগ্রাধিকার প্রদান সাপেক্ষে বিকল্প হিসেবে এই নীতি বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে প্রশাসন।
এদিকে সরকারের এই প্রস্তাবিত উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার ও শ্রমিক অধিকার সংস্থা। তবে নর্থ সাউথ ইনিশিয়েটিভ-এর নির্বাহী পরিচালক আদ্রিয়ান পেরেরা মন্তব্য করেছেন, শরণার্থীদের কেবল শ্রমসাধ্য বা ৩ডি কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা অনুচিত।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) নীতি অনুসরণ করে ন্যূনতম মজুরি, বীমা সুবিধা এবং তাদের দক্ষতা অনুযায়ী কাজের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে মালয়েশিয়ান এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ড. সৈয়দ হুসেইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করে শরণার্থীদের কাজের সুযোগ দেওয়ার পক্ষে মত দেন, তবে সর্বাগ্রে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন।